পঞ্চগড় দেবীগঞ্জে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে প্রথম সন্তান জন্মের মাত্র ১২ ঘণ্টার পর কৃষ্ণা রানী (২২) নামের এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকেলে দেবীগঞ্জ পৌর শহরের করতোয়া নদীর সেতুর টোলপয়েন্ট সংলগ্ন স্কয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, ডাক্তার না থাকা এবং জরুরী অবস্থায় পর্যাপ্ত সেবা প্রদানে অক্ষমতার কারণে এই মৃত্যু ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রসূতি কৃষ্ণা রানী দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের প্রেমবাজার এলাকার ধর্ম নারায়ণের স্ত্রী। তাদের ৪ বছর আগে বিয়ে হয়। কৃষ্ণার সিজারিয়ানের মাধ্যমে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।
কৃষ্ণা রানীর সিজারিয়ান অপারেশনটি সম্পন্ন করেন ডাক্তার শিখা মনি। অপারেশনের পরে বেডে স্থানান্তরের পর থেকেই তার শরীরে শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। রাত ২টা পর্যন্ত ক্লিনিকে রাখা হয় তাকে, এরপর রংপুরে নেওয়ার পথে নীলফামারী নামক স্থানে শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।
কৃষ্ণা রানীর সিজারিয়ান অপারেশনটি সম্পন্ন করেন ডাক্তার শিখা মনি। অপারেশনের পরে বেডে স্থানান্তরের পর থেকেই তার শরীরে শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। রাত ২টা পর্যন্ত ক্লিনিকে রাখা হয় তাকে, এরপর রংপুরে নেওয়ার পথে নীলফামারী নামক স্থানে শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।
কৃষ্ণা রানীর শাশুড়ী কনিকা রায় বলেন, আমার বউমাকে বেডে দেওয়ার পর থেকে বুক ছটফট করছে এবং পায়ে ব্যাথার কথা বলতে থাকে। আমি বারবার ক্লিনিকে জানানোর পরও ডাক্তার আসেননি। শুধু নার্স এসে দেখে যাচ্ছিলেন। এসময় স্যালাইন ইঞ্জেকশন চলছিল।
কনিকা রায় আরো বলেন, বউমার সন্তান হচ্ছে না দেখে গত তিন বছর ধরে কত না, জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি। আমার বউমার মতো মেয়ে হয়না। এখন নাতনী আছে কিন্তু আমার বউমা নেই। সার্জারীর পরে অস্বাভাবিক ভাবে পেট ফুলে উঠেছিল বলেও জানান তিনি।
কৃষ্ণা রানীর স্বামী ধর্মনারায়ণ বলেন, আমার স্ত্রীর বিয়ের আগে থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। তবে গুরুতর কোন শারীরিক জটিলতা ছিল না। কাল পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ডাক্তার বলল রক্ত স্বল্পতা আছে। পরে রক্ত জোগার করি। সিজারের পর থেকে স্ত্রীর সমস্যার কথা বলছিল। রাতে অবস্থা বেশি অবনতি হওয়ায় রংপুরে নেওয়ার পথে নীলফামারী পৌঁছানোর পর স্ত্রী মারা যায়।
এইদিকে সকালে সরেজমিন কৃষ্ণার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। সন্তান রেখে অল্প বয়সে মৃত্যুর বিষয়টি কেউ মেনে নিতে পারছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষ্ণার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল জেনেও ডাক্তার আসেননি আবার তাকে দ্রুত রংপুর কিংবা দিনাজপুরেও রেফার্ড করা হয়নি। কেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ এতক্ষণ সময় নিলেন।
এই বিষয়ে দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শহিদুল ইসলাম বাবুলের মোবাইলে ফোন দিলে তার ফোনটি বন্ধ ছিল।
এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন ধর বলেন, আমি নিজেই ওই ক্লিনিকে গিয়ে বিষয়টি দেখব।
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। তরে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলব।
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। তরে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলব।
উল্লেখ্য, এর আগেও দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর অন্তত ৩ জন নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। প্রতিবারই জটিলতা দেখা দিলে রোগীদের রংপুর বা ঠাকুরগাঁওয়ে রেফার্ড করা হয়েছিল।




