বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জননেতা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, বিগত সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা এখনো বহাল তবিয়তে আছে, তাদেরকে অপসারণ করতে হবে, বিগত সাড়ে ১৫ বছর দেশে কোনো সরকার ছিল না, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদ কায়েম করে সরকারের আবরণে একটি রেজিম দেশবাসীর উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। তারা গুম-খুন চালিয়েছে। তারা মানুষের ভোটাধিকার ও বাক স্বাধীনতাকে হরণ করেছিল, তাই তাদের এদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই। এই সরকার আওয়ামী লীগের এতো হত্যাকাণ্ডের পরেও তাদেরকে গ্রেফতার করছে না, সাবের হোসেন চৌধুরীর মত অপরাধী কে ছেড়ে দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ছিল এবং রিমান্ডে ছিল, বিএনপিকে শেষ করতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগ। আজ দেশ থেকেই আওয়ামী লীগ বিতাড়িত হয়ে গেছে।যারা বিএনপিকে মাইনাস করতে চাই তারা দেশের রাজনীতি থেকেই হারিয়ে যাবেন। তিনি সরকারকে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থার জন্য আহ্বান জানান।
এবি পার্টির সিনিয়র সহ সভাপতি মেজর (অবঃ) ডাঃ আব্দুল ওহাব মিনার বলেন, বিগত ফ্যাসিস আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যায় কৃত কর্মকর্তারাদের অপসারণের আজকের এই মানববন্ধনে আপনাদের দাবি সাথে আমি একমত পোষণ করছি। ফ্যাসিবাদের দোসর সাইফুল ইসলাম গংদের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেন।
ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন ,ফ্যাসিবাদদের দোসর এবং শিক্ষা বিভাগ ধ্বংস করার মূল পরিকল্পনাকারী পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম গংদের অন্যায়-অপকর্ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজকের এই মানববন্ধন।
বক্তারা বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সাবেক শিক্ষা সচিব শেখ আব্দুর রশিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফ্যাসিস্ট আমলের বিভাগ/জেলা পর্যায়ে কলেজের প্রিন্সিপাল/ভাইস প্রিন্সিপালদের ডিসি এসপির মত ওএসডি বা উপজেলা পর্যায়ে পাঠাতে হবে। ফ্যাসিস্ট আমলে এন এস আই এর নিয়োগকৃত ছাত্রলীগ অফিসারদের রিপোর্টের বাহানা করে বদলী করা যাবে না। শিক্ষায় ফ্যাসিস্টদের তালিকা ও অপকর্মসমূহ:
মোঃ সাইফুল ইসলাম, পরিচালক, ডিআইএ সাবেক প্রিন্সিপাল, জয়পুরহাট সরকারি কলেজ, আওয়ামী লীগের সাংগঠিনক সম্পাদক ও জয়পুরহাট থেকে মিডনাইট এমপি আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের মামা এবং স্বপনের ডিও লেটার নিয়ে জয়পুরহাট সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল হয়।
শহীদুল্লাহ, চেয়ারম্যান, ময়মনসিংহ বোর্ডের সাবেক উপাধ্যাক্ষ, জাহেদা সফির মহিলা কলেজ , আওয়ামী সাবেক মিডনাইট এমপি মির্জা আজমের ডিও নিয়ে জাহেদা সফির মহিলা কলেজের উপাধ্যাক্ষ নিয়োজিত হয়েছিল। খারুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সাবেক প্রিন্সিপাল, বকশীগঞ্জ কলেজ,শেখ পরিবারের আত্মীয় ও আওয়ামীলীগের মিডনাইট এমপি আবুল কালাম আজাদের খাস আস্থাভাজন হিসাবে তার ডিও নিয়ে বকশীগঞ্জ কলেজের প্রিন্সিপাল হয়েছিল। শামছুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, কুমিল্লা শিক্ষা বোড সাবেক চেয়ারম্যান, সিলেট শিক্ষা বোড, সেরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সময়ে সিলেট বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিল। আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, চেয়ারম্যান, সিলেট শিক্ষা বোর্ড সাবেক উপাধ্যক্ষ, মৌলভীবাজার কলেজ, ফ্যাসিস্টের দোসর হিসাবে মৌলভীবাজার কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ পেয়েছিল। ড. আজাদ খান, মহাপরিচালক, মাউশি (অফিসের কাজের কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই অলৌকিকভাবে মহাপরিচালক নিয়োগ পায়)। ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে ফ্যাসিস্ট আমলে পিএইচডি করার বিশেষ অনুমতি পায় এবং বিগত ১৫ বছর বিশেষ অনুগ্রহে নিজ জেলা শহরেই চাকুরি করেছে। ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে তার কোনো ভূমিকাই নেই। একিউএম শফিউল আজম, পরিচালক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইং, সমস্ত ফ্যাসিস্ট আমলে শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মনি ও মহিবুলের ডান হাত হিসাবে শিক্ষা প্রশাসনকে তছনস করেছে। হুমায়ুন কবির রাজন, শিক্ষক, চরফ্যাশন উত্তর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সভাপতি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদ, সাবেক আহ্বায়ক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ। তার বিরুদ্ধে ভোলার চরফ্যাশনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে দুই সন্তানের জননীকে বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলামের অন্যায়, অপকর্ম ও দুর্নীতির চিত্র চলমান ,নিয়োগ বিভিন্ন পদে ৪১ জনের অবসরের পূর্ব মুহূর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া তড়িগড়ি করে শুরু করেছেন। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে গঠিত নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব পদে উপ-পরিচালককে বাদ দিয়ে অধস্তন ১জন শিক্ষা পরিদর্শককে বিধি বহির্ভূতভাবে সদস্য সচিব করা হয়েছে।সংগঠনের উপদেষ্টা আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মু. নজরুল ইসলাম তামিজীর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান ও ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, আরজেএফ’র চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম, হৃদয়ে পতাকা ২ মার্চের সভাপতি সাহানা সুলতানা, মিতালি আইডিয়াল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌসি, সাংস্কৃতিক সংগঠক এবি বাদল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মানবাধিকার সংগঠক মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার।




