গতকাল (১৫ জুন) রবিবার বর্তমানে অর্জিত সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় বাউন্ডারি ওয়াল সহ সমস্ত স্থাপনা গুঁরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ২য় তলায় সাগর-রুনি মিলনায়তনে সচ্চিদানন্দ সেন গুপ্ত এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি একজন সংখ্যালঘু নাগরিক ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী ধারী, Institute of Chartered Accountants of Bangladesh (ICAB) এর একজন সদস্য । আমার শৈশব কেটেছে কক্সবাজারের মাটি ও মানুষের সাথে। জীবনের একটা অংশ আমি ও আমার পরিবার কক্সবাজারেই ব্যয় করেছি। সেই সময়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে আমার পিতা নৃপেন্দ্র মোহন সেন গুপ্তের নামে অনেক জমি ক্রয় করেন। সেই ধারায় কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্টেও ২ দশমিক শূণ্য ৩ একর জমি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে ভোগদখলে রয়েছে।
১৯৭৭ সালে এই জমি সরকার ‘অর্পিত সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে আমরা মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং ১০৬৫৭/২০২৪ দায়ের করি এবং গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে হাইকোর্ট জেলা প্রশাসক কক্সবাজারসহ ৯ জনকে উদ্দেশ করে উক্ত জমির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। মামলাটি সর্বশেষ ২৮ মে ২০২৫ তারিখে হাইকোর্টের কার্যতালিকার চূড়ান্ত শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১২ মে ২০২৫ তারিখে জেলা প্রশাসক কক্সবাজারের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিষয়টি তুলে ধরি কোর্টের বিষয়ে জেলা প্রশাসন কোন হস্তেক্ষেপ করবেন না বলে আশ্বাস দেন। পরদিন ১৩ মে সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানালে তিনি আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেন ৷
১২ মে ২০২৫ তারিখে জেলা প্রশাসক কক্সবাজারের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিষয়টি তুলে ধরি কোর্টের বিষয়ে জেলা প্রশাসন কোন হস্তেক্ষেপ করবেন না বলে আশ্বাস দেন। পরদিন ১৩ মে সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানালে তিনি আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেন ৷
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার ২ দিন আগে হঠাৎ করে জেলা প্রশাসনের এলআর ফান্ডের নামে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়। এত বিপুল টাকা তাৎক্ষণিকভাবে জোগাড় করা আমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এবং তাদের চাহিদা মতো টাকা ঈদের পরে ব্যবস্থা করার কথা বললে ক্ষিপ্ত হয়ে যায় জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। হয়তো সেই ক্ষোভ থেকে মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার আদেশ থাকার পরও তা অমান্য করে। এমনকি মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ জেলা প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়েছে বলে মিথ্যা ও ভুল তথ্য গণমাধ্যমে দিয়ে (যদিও মহামান্য হাইকোর্টের সেই আদেশের কপি এসিল্যান্ড গণমাধ্যমে দেখাতে পারেনি) পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির প্রথম দিন ৫ জুন ২০২৫ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক সালাউদ্দিনের নির্দেশে এবং কক্সবাজার সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) জনাবা শারমিন সুলতানা, কউক সচিব জনাবা সানজিদা বেগম, আনসার বাহিনী, পুলিশ ও শ্রমিক বাহিনী নিয়ে আমার জমিতে বুলডোজার চালিয়ে চারপাশের সীমানা প্রাচীর, বসবাসরত কেয়ারটেকারদের ঘর ও অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। এসময় আমার যাবতীয় মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। এতে আমার অন্তত ২ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ভাংচুর মহামান্য হাইকোর্টের আদেশকে বৃদ্ধআঙ্গুলি দেখানোর সামিল, যা নজিরবিহীন ও নিন্দনীয় ঘটনা ৷ একটা চিহ্নিত ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে এবং তাদের খুশি করতে আমার জমিটা ভাগবাটোয়ারা করার চিত্র দেখাগেছে।




