সমাবেশে বক্তারা বিশ্ব পরিবেশ দিবসের গুরুত্ব বর্ণনা করে বলেন, বাংলাদেশের বায়ু, পানি, মাটি, পরিবেশ, প্রতিবেশ সবকিছুই দূষণের শিকার। বর্তমানে যে হারে দূষণ চলছে তাতে করে ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি স্থলই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাবে। পরিবেশের উন্নয়নের জন্য সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক প্রয়াস থাকতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করাও একটি জরুরী কর্তব্য বলে তারা বক্তব্যে বলেন।
সভাপতি কমরেড বদরুল আলম জলবায়ুর অভিঘাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে তা আমাদের জন্য অশুভ সংকেত মন্তব্য করে বলেন, উপকূল অঞ্চলে সমুদ্র পৃষ্ঠে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি , ফসলের খেতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, পুনঃপুন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ দৃষ্টান্ত। প্লাষ্টিকের ব্যবহার পরিবেশ-প্রতিবেশকে ভয়াবহ পরিনতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করি তিনি প্লাষ্টিক দ্রব বর্জনের আহ্বান জানান। প্লাষ্টিক দ্রব্যের উৎস জীবাশ্ম জ্বালানির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বকে উষ্ণায়িত করার সকল ধরনের সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াতে হবে। তিনি বিশ্বকে বিপন্নের হাত রক্ষার করার জন্য পরিবেশ প্রতিবেশ বান্ধব চাষাবাদের ধরন সর্বত্র চালু করার কথা বলেন। তিনি ঘোষিত জাতীয় বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে, উপকূলে পরিবেশ সম্মত টেকসই বেড়ী বাঁধ নির্মাণ ও সম্প্রতি জলোছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পূণর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দাবী করেন। তিনি পরিবেশ আন্দোলনকে সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপায়িত প্রয়োজনীয়তার কথাও ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে ঘোষিত দাবীনামা:
★প্লাস্টিকের ভয়াবহ দূষণ থেকে বিশ্বকে রক্ষা কর।
★ জলবায়ুর অভিঘাত থেকে উপকূলী অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সুরক্ষা কর।
★ সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভেরিবাঁধ দ্রুত নির্মাণ কর এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দাও
★উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই ভেরীবাঁধ নির্মাণ ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ দাও।
★ক্ষতিগ্রস্থ লবন চাষী ও জেলেদের ক্ষতিপূরণ দাও।




