শহিদুল ইসলাম, গাজীপুরঃ
সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী মাইশা মমতাজ মীমের মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার। শোকে পাথর হয়ে আছে বাবা-মা ও স্বজনরা। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায়। এলাকাবাসি ও শত শত শিক্ষার্থী তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন।
শনিবার সকালে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আশপাশের মানুষজন নানাভাবে বেসরকারী স্কুলের অধ্যক্ষ বাবা নূর মোহাম্মদ ও মা অছিমা বেগমকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাবা-মায়ের মন কোনভাবেই শান্ত হচ্ছে না। বিলাপ করছেন আর বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন।
বাবা নূর মোহাম্মদ মুখে একই কথা, ‘তোমরা আমার মিমকে এনে দাও। মাগো তুমি আমাদের ছেড়ে কোথায় চলে গেলা, তুমি ফিরে আসো।
মাইশা মমতাজ মীম বাবা-মায়ের বড় মেয়ে। মেধাবী ছাত্রী মীম তার বাবা নুর মোহাম্মদ মামুনের প্রতিষ্ঠিত গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মৌচাক আইডিয়াল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করে ভর্তি হন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি ইংরেজি বিভাগে ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।
মাইশার মৃত্যুর পর সড়ক দুর্ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, মাইশা উড়াল সড়কের এক পাশ দিয়েই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ পেছন থেকে বড় একটি কাভার্ডভ্যান তার স্কুটির পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে সে পড়ে গিয়ে কাভার্ডভ্যানের চাকার নিচে চাপা পড়ে। এরপর ট্রাকটি একটু সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। ট্রাকের ভেতর থেকে চালক বা সহযোগী উঁকি দিয়ে সেই দৃশ্য দেখে এবং তাৎক্ষণিক ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থী শুক্রবার সকালে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার খবর এলাকায় পৌঁছলে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার শিক্ষক, সহপাঠী, আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকাবাসী ছুটে আসেন গ্রামের বাড়িতে। বিকালে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি মৌচাকে আসার পর স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাকে একনজর দেখার জন্য মৌচাক আইডিয়াল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার শত শত মানুষ ছুটে আসেন।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আবুল কালাম বলেন, মাইশা মমতাজ মীম অত্যান্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। দুই বোনের মধ্যে মীম বড়। তার ছোট বোন রৌদোসী মমতাজ মৌ উত্তরা রাজউক কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পাস করে শুক্রবার মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে উত্তরার বাসা থেকে বের হয়ে স্কুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য যাচ্ছিলেন মীম। কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে নামার পথে একটি কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মীম। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।




