গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
নদীর শাখা নদী ও নালাগুলো পানিতে ভরে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে এক চর থেকে অন্য চরে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে নৌকা, বাঁশের সাঁকো ও অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা। এ অবস্থায় মাঝি-মাল্লা ও চরবাসীরা পুরোনো নৌকা মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, ছন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদী প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে চরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়ে তোলে।
নদীতে পানি বাড়ার পাশাপাশি দেখা দেয় ভয়াবহ ভাঙন। এতে রাস্তাঘাট, বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্রায় ছয় মাস ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয় চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের।
উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের উজান বোচাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ফুল মিয়া বলেন, নদীতে পানি বাড়লেই রাস্তাঘাট ডুবে যায়। হাট-বাজার, উপজেলা কিংবা জেলা শহরে যাতায়াত খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ছোট ছোট নদী ও নালা পার হতে নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা।
তিনি আরও জানান, অনেকের ব্যক্তিগত নৌকা থাকলেও অনেকে ভাড়ায় নৌকা ব্যবহার করেন। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে নৌকা মেরামত করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।

বেলকা চরের নৌকার মাঝি মোন্তাজ মিয়া বলেন, বর্ষা এলেই নৌকায় রং, বার্নিশ, টিন ও প্লানসিট পরিবর্তন করতে হয়। চার-পাঁচ মাস নদীতে ভাড়া খাটানো যায়। কিন্তু প্রতিবছর মেরামতে যে খরচ হয়, তাতে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক খেয়াঘাট সরকারি ইজারার আওতায় পরিচালিত হলেও অধিকাংশ চরাঞ্চলে ব্যক্তিগত উদ্যোগেই নৌকা চলাচল অব্যাহত রয়েছে। বর্ষার সময় এসব নৌকা ছাড়া চলাচলের আর কোনো বিকল্প থাকে না।
কাপাসিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন,“প্রতিবছর স্থানীয় উদ্যোগে ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করতে হয়। পাশাপাশি ভাড়া নৌকার মাধ্যমেই মানুষ পারাপার হয়। বছরের অধিকাংশ সময় নৌকা বালুচরে পড়ে থাকায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, তাই নিয়মিত মেরামত প্রয়োজন হয়।”
হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, চরবাসীর চলাচলের প্রধান মাধ্যম নৌকা। নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঝি-মাল্লারা নৌকা মেরামত শুরু করেন। এটি তাদের বাপ-দাদার পেশা, যা এখনও অনেকে ধরে রেখেছেন।
এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান জানান, বর্ষাকালে নদী পারাপারের জন্য বর্তমানে সরকারি কোনো নৌকা বরাদ্দ নেই। তবে অন্যান্য উপজেলার মতো সুন্দরগঞ্জেও সরকারি নৌকা ও স্পিডবোট সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগে নৌকা, স্পিডবোট ও টেকসই সাঁকো নির্মাণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রতিবছরের মতো এবারও চরম দুর্ভোগে পড়বেন তিস্তা পাড়ের হাজারো মানুষ।




