গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর কালির খামার গ্রামে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর কালির খামার গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ রুজিনা বেগম অভিযোগ করেন, একই গ্রামের মো. জহুরুল হক দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তিনি ওই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় অভিযুক্ত তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার হুমকি দিতেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীর স্বামী মো. মশিউর রহমান রাজমিস্ত্রির কাজে প্রায় ৪ থেকে ৫ দিন আগে চট্টগ্রামে যান। চলতি বছরে গত ২৫ জুন দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বাড়িতে শ্বশুর-শাশুড়ি না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে মুখ চেপে ধরে তাঁকে জোরপূর্বক বাড়ির পাশের একটি পানের বরজে নিয়ে যান এবং তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
এ সময় ভুক্তভোগী নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন। তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তের পরিহিত গেঞ্জি ছিঁড়ে যায়। পরে ধাক্কা দিয়ে তিনি পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাঁকে ধাওয়া করলেও আটক করতে পারেননি।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তের ছিঁড়ে যাওয়া গেঞ্জিটি তিনি আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।
পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শের পর ভুক্তভোগী থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ জানান, লিখিত এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




