পঞ্চগড় বোদা উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত বোদা পাইলট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সেই সমালোচিত প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুলের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেংকারি, অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সহ সহকারী শিক্ষকরা।
গতকাল সোমবার (৭ জুলাই) বিকেলে কলেজের শিক্ষকদের হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুলের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেংকারি, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নারগিস পারভীন মৌসুমী, সহকারী শিক্ষক আবু সাঈদ নূর আলম, সহকারী শিক্ষক আবু তাহের প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন রবিউল আলম সাবুল। একই সাথে তিনি বোদা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের মাঝে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিধি বহির্ভূতভাবে বিদ্যালয়ে ৫৩ জন শিক্ষক নিয়োগ করেছেন। যাদের এমপিও ভুক্ত করতে পারছেন না তিনি। রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বিদ্যালয়কে ব্যবহার করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বক্তারা আরও জানায়, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার ছত্রছায়ায় স্কুলটিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুল। তার বিরুদ্ধে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশনে একাধিক অভিযোগ দেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। কিন্তু দপ্তরগুলোতে প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও অর্থের বিনিময়ে দপ্তরগুলো ম্যানেজ করেন। তার বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুলের এসব অনিয়ম অপকর্ম নিয়ে কোন শিক্ষক কথা বললে তাকে বরখাস্ত করার হুমকি ধামকি দেয়া হতো। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর গত ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর রাজনৈতিক মামলায় প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুল কারাগারে গেলে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়টি সামনে আসে। একই সাথে রবিউল আলম সাবুলকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে আর্থিক কেলেংকারি, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবি করেন বোদা পাইলট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুল বলেছেন, যেসব শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনয়ন করেছেন মূলত তাদের নিয়োগ পত্র সহ সার্টিফিকেটে ত্রুটি রয়েছে। তাদের এসব কাগজ পত্রে ভুল ক্রটি ঢাকার জন্য আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে এখন বিদ্যালয়ের বাইরে আছি। আমি যেন বিদ্যালয়ে যেতে না পারি এজন্য তারা এসব করে বেড়াচ্ছেন। আর আমি কোন অনিয়ম দুর্নীতি করিনি।
একাধিকবার মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত হয়েছে কোন অনিয়ম দুর্নীতি প্রমাণিত হয়নি। যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে তাহলে তা মাথা পেতে নেব। তাকে হেয় করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ বানোয়াট ও অসত্য বলে দাবি করেন তিনি।




