পঞ্চগড় বোদা উপজেলার চার ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তাঁদের পুর্নবহালের দাবিতে বোদা উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের ব্যানারে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেলে বোদা বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ ও সমাবেশে অংশ নেন বোদা উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় বক্তারা বলেন, জীবন সরকার ও নাজমুল ইমন সহ চার জনকে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটি ছাত্রদলের ভেতরে চলমান রাজনৈতিক প্রতিহিংসার একটি বহিঃপ্রকাশ।
এ সময় বিক্ষোভ মিছিলে জীবন ভাইয়ের বহিষ্কার মানি না, ইমন ভাইয়ের বহিষ্কার মানি না- মানবো না, অবৈধ বহিষ্কার মানি না মানবো না, অবৈধ বহিষ্কার বাতিল কর করতে হবে, অবৈধ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে চার নেতার পুনর্বাহাল করতে হবে। তারা নানা শ্লোগান দেন।পরে বোদা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বোদা উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক রায়হানুল আলম প্রধান রিয়েল, বোদা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাকিবুল আহসান রম্য, বোদা পাথরাজ সরকারি কলেজ শাখার ছাত্রদলের আহবায়ক আবু সাইদ প্রামাণিক, সদস্য সচিব মাজেদুর সরকার মুন্না সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, গত রবিবার (৬ জুলাই) বোদা উপজেলার সাকোয়া বাজার এলাকায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাসুদ রানা রিয়াজকে কিছু লোকজন মারধর করেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। মারধর করেছেন তারা সবাই বয়স্ক, তরুণ কেউ ছিল না। এমনকি সেখানে ছাত্রদলের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। কিন্তু বোদা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জীবন সরকার, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি নাজমুল ইমনসহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের চার ছাত্রদল নেতাকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল বহিষ্কার করেছে। কিন্তু তারা এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। অবিলম্বে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। একইসঙ্গে তাদের পুনর্বহাল করতে হবে স্বপদে।
বক্তারা আরও বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করুক। যদি তদন্ত করে প্রমাণিত হয় বোদা উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা দোষী তাহলে তারা শাস্তির মুখোমুখি হবেন। আর যদি কোনো দোষ না করে থাকেন তাহলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাসুদ রানা রিয়াজকে বহিষ্কার করতে হবে। কিন্তু কোনো তদন্ত না করেই এই চার নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতা পঞ্চগড়ে আসবেন কিন্তু তিনি স্থানীয় পর্যায়ের কোনো নেতা কর্মীকে জানান নি। এখন হামলার শিকার হয়েছেন এটার আমরা প্রতিবাদ জানাই তবে কারা করেছে এটা তদন্ত করে বের করা দরকার। যদি তাদের পুর্নবহাল করা না হয় তাহলে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারী দেন বক্তারা।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি মাসুদ রানা রিয়াজের বাড়ি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী এলাকায়। রবিবার (৬ জুলাই) বিকেলে তিনি বাড়ি থেকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পঞ্চগড়-২ সাবেক এমপি মোজাহার হোসেনের কবর জিয়ারত করার জন্য রওনা হন। সাকোয়া বাজারে পৌঁছালে তাকে কয়েকজন ব্যক্তি আটক করে মারধর করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতার ওপর হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে একই দিন বহিষ্কার হয়েছে ছাত্রদলের চার নেতা।
গত সোমবার (৭ জুলাই) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঐ চার নেতাকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
গত সোমবার (৭ জুলাই) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঐ চার নেতাকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
এদিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বোদা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জীবন সরকার, বোদা পৌর ছাত্রদলের সভাপতি নাজমুল ইমন, সাকোয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহবায়ক মো. আশিক ও যুগ্ম আহবায়ক জসিম ইসলামকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। এমনকি তাদের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়।



