গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় গাছে বেঁধে এক নারীকে প্রকাশ্যে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতবাক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর নাম শহিদা বেগম। তিনি উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্ধা (মাঝিপাড়া) গ্রামের দিনমজুর দুলা মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত রবিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে শহিদা বেগম পার্শ্ববর্তী এক গ্রামে তাঁর বড় জায়ের বাবার বাড়িতে পোশাক তৈরির কাজে যান। সেখান থেকে ফিরে আসার পর স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ইউনুস মিয়া ও তাঁর অন্তত সাত-আটজন সহযোগী তাঁকে পরকীয়ার অপবাদে অভিযুক্ত করে গাছে বেঁধে মারধর শুরু করেন।
শহিদার অভিযোগ, তাঁকে নিজ বাড়ির উঠানে একটি আমগাছের সঙ্গে হাত ও পা বেঁধে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে কাঠ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এরপর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়, মুখে রঙ মেখে দেওয়া হয় এবং জুতার মালা পরিয়ে বিবস্ত্র করে ফেলে রাখা হয়। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
এই পাশবিক ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায়—একজন নারী গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় নিস্তেজ হয়ে বসে আছেন। চারপাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে কিছু শিশু ও মানুষ, কারো মুখ দৃশ্যমান নয়। নারীর চোঁখেমুখে আতঙ্ক, চুল কাটা, পোশাক এলোমেলো। ছবি দেখে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ।
লুটপাট ও জমি দখলের অভিযোগ :
শহিদা বেগম বলেন, “নির্যাতনের পর তারা আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে গরু বিক্রির টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তাদের উদ্দেশ্য আমাদের বসতভিটার জমি দখল করা। আমি থানায় অভিযোগ করেছি, কিন্তু তারা মামলা না করতে বারবার হুমকি দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “এখনও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান মজনু ঘটনাস্থলে গিয়ে শহিদাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। তিনি বলেন, “বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তাকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”
এ বিষয়ে হরিণাবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবুজার আলী জানান, “প্রাথমিক তদন্তে শহিদা বেগমের ওপর নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে থানায় গিয়ে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
ঘটনার বিষয়ে ইউনুস মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের কোনো মন্তব্য দেননি। উল্টো, তার লোকজন সাংবাদিকদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে বিরূপ আচরণ করেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন :
এ ধরনের ঘটনায় নারীর প্রতি সহিংসতা ও সামাজিক বিচার ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা আবারও সামনে এসেছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ঘটে যাওয়া এ ধরনের বর্বর কর্মকাণ্ড সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। ঘটনাটির দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা।




