নিজস্ব প্রতিবেদক-◊◊
মঙ্গলবার ১৯ আগস্ট সকাল ১১ টায় জোটের কার্যলয়ে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, ৫২ ভাষা আন্দোলন ৬৯, ৯০ ও ২৪ গণঅভ্যুত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের স্মৃতি প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং ২৪ গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সুচিকিৎসা দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়। ড. ইউনুস গংয়ের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বছর পুর্তি হয়েছে। তবে জন আকাঙ্ক্ষার ইতিবাচক একটিও পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং জনজীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পরেছে। বৈষম্য বেকারত্ব দারিদ্র্য চরম আকার ধারণ করেছে। ঋণের দায়ে খাবারের অভাবে সাধারণ মানুষ আত্মহত্যা করছে।গাজীপুর সাভার আশুলিয়ায় ১১৬ টি পোশাক কারখানা বন্ধ। ২১ লক্ষ শ্রমিক বেকার এর মধ্যে নারী শ্রমিক ১৮ লক্ষ। কাজ হারিয়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বাস্তব অবস্থা আরো করুন। পুঁজি হারিয়ে এই একবছরে লক্ষাধিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পথে বসেছে, ঋণের দায়ে দিশাহারা হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বাজার সিন্ডিকেট আগের মতোই বহাল, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। কোন কিছুই সরকারের নিয়ন্ত্রণে নাই।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, মব সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, খুন, ধর্ষণ, লুটপাট বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন ঘরে বাইরে রাস্তা ঘাটে যেখানে সেখানে পরে থাকছে লাশ আর লাশ। একটা বিভীষিকাময় অবস্থা। ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপত্তা নেই। একবছর পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে না নাই বোঝা যায় না। ঘুষ দুর্নীতি আগের চেয়ে বেড়েছে। আট উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। এতে জনমনে সন্দেহ সংশয় আরো বেড়েছে। গণমাধ্যম ফ্যাসিস্ট আমলের মতোই ক্ষমতাসীনদের গালগল্প প্রচারে ব্যস্ত। জনগণ গণমাধ্যমে উপর আস্থা হারিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল। আদালত প্রাঙ্গন একবছর পরেও শৃঙ্খলা আসে নাই। মব সন্ত্রাস মিথ্যা মামলা, মামলা বানিজ্য চলছেই।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আর্থিক খাত নিয়ে উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের কথার বাগাড়ম্বর ছাড়া কোন সংস্কার হয় নাই। এই একবছরে খেলাপি ঋণ বহু ব্যাংককে দেউলিয়ার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। বিনিয়োগ নাই, কুটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে বিদেশে শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে আসছে। অনেক দেশ জঙ্গি অপশক্তির কার্যকলাপের জন্য বাংলাদেশের পাসপোর্ট লাল তালিকা ভুক্ত করেছে। মালয়েশিয়ায় ভিসা পেয়েও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশী শ্রমিকদের। মিথ্যা আশ্বাস ছাড়া রোহিঙ্গা শরনার্থী সংকটের কোন সুরাহা হয় নাই। বরঞ্চ মানবিক করিডর, একতরফা বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলের মাঝে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য বিনষ্টকারী বিদেশি পাসপোর্টধারী ভাড়াটেদের নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন বাতিল করা হয় নাই।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, নির্বাচনে সময়সীমা ঘোষণার পর আবার নানা অজুহাতে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত শুরু হয়েছে। আমরা পরিস্কার করে বলে আসছি, আপনারা নৈতিকতা ও নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন আগেই, আপনাদের দ্বারা মেটিকুলাস ডিজাইন ছাড়া সুষ্ঠু নিরপেক্ষ অংশগ্রহণ মুলুক নির্বাচন অসম্ভব। যেহেতু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত এবং দেশবাসীর সাথে ছলনা প্রতারণা ছাড়া কোন সংস্কার এই একবছরে করতে পারেন নাই। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আপনাদের অংশগ্রহণ নাই, আপনারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ধারণ করেন না। রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করে ঘনঘন ব্যক্তিগত বিদেশ সফরে বছর পার করেছেন। ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধা যা নিয়েছেন, এর ফিরিস্তি তুলে ধরলে আরেকটি সাংবাদিক সম্মেলন করতে হবে। সম্পদের হিসাব দেন নাই। সাম্প্রদায়িক জঙ্গি অপশক্তি কে আস্কারা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয় কে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সেহেতু স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংবিধানের চার মূলনীতি অক্ষুণ্ন ও গণতন্ত্র সুরক্ষায় ডিসেম্বর ২০২৫ইংয়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। দ্রুত সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ ড. ইউনুস গংয়ের পদত্যাগ করে নির্বাচন কালীন জাতীয় সরকার গঠন করে ক্ষমতা হস্তান্তরের অন্য কোন বিকল্প নাই।




