• About
  • Advertise
  • Careers
বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬
  • Login
NEWSLETTER
ডেইলি সকালের কাগজ
  • হোম
  • বাংলাদেশ
    • জাতীয়
    • এক্সক্লুসিভ
    • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • দেশজুড়ে
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • রাজশাহী
    • সিলেট
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
    • বিশ্বকাপ
    • ক্রিকেট
    • ফুটবল
    • টেনিস
    • হকি
  • অর্থনীতি
    • বিশ্ব অর্থনীতি
    • বিজনেস বিশেষ
    • শেয়ার বাজার
    • ব্যবসা-বাণিজ্য
    • ব্যাংক-বীমা
  • আরো সংবাদ
    • লাইফস্টাইল
      • রেসিপি ও রেস্তোরা
      • ফ্যাশন
      • রুপচর্চা
      • অন্যান্য
    • বিচিত্র জগত
    • শিক্ষাঙ্গন
    • সাহিত্য
    • ধর্ম
    • স্বাস্থ্য
    • অপরাধ
    • দুর্ভোগ
    • নারী
    • মতামত
    • চাকুরি
    • প্রবাস
    • আইন আদালত
    • তথ্যপ্রযুক্তি
ডেইলি সকালের কাগজ
  • হোম
  • বাংলাদেশ
    • জাতীয়
    • এক্সক্লুসিভ
    • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • দেশজুড়ে
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • রাজশাহী
    • সিলেট
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
    • বিশ্বকাপ
    • ক্রিকেট
    • ফুটবল
    • টেনিস
    • হকি
  • অর্থনীতি
    • বিশ্ব অর্থনীতি
    • বিজনেস বিশেষ
    • শেয়ার বাজার
    • ব্যবসা-বাণিজ্য
    • ব্যাংক-বীমা
  • আরো সংবাদ
    • লাইফস্টাইল
      • রেসিপি ও রেস্তোরা
      • ফ্যাশন
      • রুপচর্চা
      • অন্যান্য
    • বিচিত্র জগত
    • শিক্ষাঙ্গন
    • সাহিত্য
    • ধর্ম
    • স্বাস্থ্য
    • অপরাধ
    • দুর্ভোগ
    • নারী
    • মতামত
    • চাকুরি
    • প্রবাস
    • আইন আদালত
    • তথ্যপ্রযুক্তি
No Result
View All Result
ডেইলি সকালের কাগজ
Home বাংলাদেশ এক্সক্লুসিভ

১১তম মৃত্যুবার্ষিকী : ইতিহাসের অম্লান নাম রাষ্ট্র ভাষা মতিন

by Abdul Halim Nisun
অক্টোবর ৭, ২০২৫
in এক্সক্লুসিভ, বাংলাদেশ
0
১১তম মৃত্যুবার্ষিকী : ইতিহাসের অম্লান নাম রাষ্ট্র ভাষা মতিন
0
SHARES
1
VIEWS
Share on FacebookShare on TwitterShare on Pinterest
এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া-♦♦
ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন তার কর্মের মধ্য দিয়েই জাতীয় রাজনীতির অহংকার আর দেশপ্রেমিক রাজনীতির আলোকবর্তিকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম আর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণার প্রথম ও প্রধান ধাপই হচ্ছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। সেই ভাষা আন্দোলনের সাফল্য থেকে বাঙালি স্বপ্ন দেখেছে স্বাধীনতার আর পেয়েছে মুক্তির সংগ্রামের উজ্জীবনী শক্তি ও সাহস। ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ এলেই সর্বপ্রথম যার মুখটি বাঙালির সামনে ভেসে ওঠে, তিনি হলেন ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন। যিনি ভাষা মতিন নামেই পরিচিত আমাদের কাছে।বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হচ্ছে ভাষা আন্দোলন। সেই ভাষা আন্দোলনের সফলতা থেকে বাঙালী পেয়েছে মুক্তির সংগ্রামের উজ্জীবনী শক্তি ও সাহস। ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ আসলেই সর্বপ্রথম যার মুখটি বাঙালীর সামনে ভেসে উঠে, তিনি হলেন- ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন। ভাষা আন্দোলনের পর থেকে তিনি ‘ভাষা মতিন’ নামেই বাঙালীর কাছে সর্বাধিক পরিচিত। ভাষা আন্দোলনে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় ও অনস্বীকার্য।

বাংলা ভাষার ইতিহাসের সঙ্গে যে নামগুলো জড়িয়ে আছে, যারা আমাদের অহঙ্কার তাদেরই অন্যতম ‘ভাষা মতিন’। ২০১৪ সালের ৮ অক্টোবর অবসান হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের সেই অন্যতম সংগঠক আব্দুল মতিনের ৮৮ বছরের বর্ণিল জীবনের। মস্তিষ্কে স্ট্রোক হওয়ায় প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  আমাদের ছেড়ে চলে যান অনন্তকালের যাত্রায়।

বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ধুবালীয়া গ্রামে ১৯২৬ সালের ৩রা ডিসেম্বর জন্ম নিলেও পরবর্তীতে বাবার কর্ম জীবনের সুবাদে এই কিংবদন্তীর ছেলেবেলা কেটেছে দার্জিলিং-এ। সেখানে স্কুল জীবন শেষ করে ১৯৪৩ সালে রাজশাহী গভর্মেন্ট কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন এবং পরে মাস্টার্স করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে। ১৯৫২ সালে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আব্দুল মতিন।
ভাষা আন্দোলনের পর তিনি ছাত্র ইউনিয়ন গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং পরে সংগঠনটির সভাপতিও হন। এরপর কমিউনিস্ট আন্দোলনে সক্রিয় হন তিনি। ১৯৫৪ সালে পাবনা জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক হন আবদুল মতিন।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ‘ন্যাপ’ গঠন করলে তিনি ১৯৫৭ সালে তাতে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালে মতিন ‘পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল ) গঠন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ২০০৬ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। পরবর্তীকালে ২০০৯ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি পুনর্গঠিত হলে আব্দুল মতিন আবারও এতে যোগ দেন।

ভাষা আন্দোলন বিষয়ে তার রচিত বিভিন্ন গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বাঙালী জাতির উৎস সন্ধান ও ভাষা আন্দোলন’, ‘ভাষা আন্দোলন কী এবং কেন’ এবং ‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস’। এছাড়া প্রকাশিত হয়েছে তার আত্মজীবনীমূলক বই ‘জীবন পথের বাঁকে বাঁকে’। ঢাকার মোহাম্মদপুরে পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন দু’মেয়ের বাবা আব্দুল মতিন । মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই নিজের দেহ তিনি দান করে গেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য, আর চোখ দান করে গেছেন সন্ধানীকে।

ভাষা বীর আবদুল মতিন নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই সারাটা জীবন অতিক্রম করেছেন। তিনি যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন তা আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ভাষা মতিনকে ক্ষমতা আকৃষ্ট করতে পারেনি। শুধুমাত্র ক্ষমতাই রাজনীতির উদ্দেশ্য হতে পারে না, তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেটারই প্রমাণ রেখেছেন। সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্প্রজ্যবাদের মানবতাবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে রাজনীতির মধ্যদিয়ে বিদ্রোহের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন ভাষা মতিন।

মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের জন্মগ্রহণকারী ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন আমাদের জাতীয় রাজনীতির অহংকার আর দেশপ্রেমিক ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রাজনীতির আলোকবর্তিকা। নির্যাতিত-নিপিড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে কঠোর সংগ্রামের মধ্যদিয়েই অতিক্রম করেছেন সারাটা জীবন। তিনি যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন তা আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আজও বাংলাদেশে একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী ভাষা মতিন রাজনীতি করেছেন দেশ ও মানুষের জন্য। ক্ষমতার মোহ তাকে স্পর্শ করতে পারে নাই।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ভাষা মতিনের সহকর্মীরা আজ আর তাকে স্মরণ করে না। কেউ পরিবারের সাথে যোগাযোগও করে না, খবরও রাখে না। এতে দু:খ নাই। মওলানা ভাসানী পরবর্তী ক্ষমতার বাইরে থেকেও জনগণের কল্যাণ করা যায়, তার সার্থক প্রমাণ করেছেন ভাষা মতিন। ১৯৫২ সালে বাংলা মায়ের ভাষার অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন, বাংলাদেশের স্বাধীকার ও স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে ১৯৫৭ সালে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ন্যাপ গঠন করলে তিনি তাঁর পাশে এসে দাড়ান। আমৃত্যু তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় ও তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবতীর্ণ ছিলেন। তিনি শুধুমাত্র একটি পতাকার জন্য যুদ্ধ করেননি, তার যুদ্ধ ছিল জনগণের মুক্তির জন্য।

মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদির উল্টো দিকে গগনশিরীষের ছোট-বড় বেশ কিছু গাছ মাথার ওপর ডালপালা ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেখানে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে রাখা হয়েছিল ভাষা মতিনের কফিন। সেদিন ৫২’র সহযোদ্ধা ও নেতাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কফিনের পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে আরেক ভাষা সৈনিক প্রয়াত রওশন আরা বাচ্চু আক্ষেপ আর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘ছি, কি লজ্জা! আমরা দিন দিন অকৃতজ্ঞ জাতিতে পরিণত হচ্ছি। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকেও আমরা দিতে পারিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা।’ আরেক ভাষাসৈনিক শামসুল হুদা বলেছিলেন, ‘জাতি যদি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে সম্মান না দিতে পারে, তাহলে গোটা জাতিই কলঙ্কিত হয়। আমরা আর কত কলঙ্কের দায়ভার নেব?’

জীবনের শেষ দিকে আমরা ভাষা মতিনকে খুব কাছ থেকে পেয়েছিলাম। ঐতিহ্যবাহি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ’র নেতৃত্বে থাকার কারনে আমাকে ও আমাদের দলীয় প্রধান জেবেল রহমান গানিকে খুবই স্নেহ করতেন। এবং বলতেন, “রাজনৈতিক এই দায়িত্ব ধরে রাখো একদিন পরিবর্তন আসবেই। সেদিনের অপেক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাও।” তিনি বলতেন, “মওলানা ভাসানী ও ন্যাপকে ত্যাগ করা আমার রাজনৈতিক ভূল সিদ্ধান্ত ছিল। এই ভুল না হলে বাংলাদেশের ইতিহাস হয়তো অন্যরকম হতো।”

বর্তমান রাজনীতিতে যে অবক্ষয়, তাতে নতুন প্রজন্ম তাঁর মতো একজন ত্যাগী ও দেশপ্রেমিক মানুষের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজবে। তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানালে সম্মানিত হতো গোটা জাতিই। কিন্তু, রাষ্ট্রের অবহেলার মধ্য দিয়েই তাকে বিদায় নিতে হয়েছে এই নশ্বর পৃথিবী থেকে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার দীর্ঘ সময় পরও সর্বস্তরে বাংলা চালু না হওয়ায় ক্ষোভ ছিল ভাষা বীর আবদুল মতিনের। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘যে ভাষার জন্য সংগ্রাম হলো, জীবন দিতে হলো, সেই বাংলা এখনো সর্বস্তরে চালু হয়নি। এটা কোনোভাবেই ঠিক নয়। মনে রাখতে হবে, বাঙালিদের ভালো করে ইংরেজি শিখতে হলেও বাংলা জানতে হবে। কারণ ভালো বাংলা ছাড়া ভালো ইংরেজিও শেখা যাবে না।’

বাম রাজনীতি করেছেন আজীবন, যুক্ত ছিলেন কৃষক-শ্রমিকদের সঙ্গে। সমকালে মওলানা ভাসানী ছিলেন তাঁর আদর্শ। গৌরবময় ইতিহাসের নায়ক কীভাবে জীবিতকালে লোকচক্ষুর আড়ালের কারাগারে দীর্ঘকাল বন্দী থেকে এবং সুযোগ্য সম্মান না পেয়ে আমাদের এই  বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বসবাস করে গেলেন—ভাবতেও কষ্ট হয়, দু:খ হয়। বাংলা ভাষার এই দেশে যেন তিনি ছিলেন এক আগন্তুক। কোনো সরকারই তাঁকে চিনতে চায় নাই, সম্মান দিতে চায় নাই।
যতটুকু সময় ভাষা বীর আবদুল মতিনের সাথে মেশবার সুযোগ হয়েছে দেখেছি তাঁকে, কখনো ব্যক্তিগত বিষয়-আশয় নিয়ে আক্ষেপ বা ক্ষোভ প্রকাশ করতেন না। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রামী আবদুল মতিন দরিদ্রতা পরিহার করতে পারেননি। তাঁকে এই অভিশাপ থেকে উদ্ধার করে একটু স্বস্তি দেওয়ার দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রের। কিন্তু কোনো সরকার তাঁর এই বাস্তবতাকে সমর্থন দেয়নি, করেনি যোগ্য সম্মান। ভাষা মতিন ছিলেন এমন একজন, যিনি শুধু দিয়ে গিয়েছেন, পেলেন না তেমন কিছু। আর যা দিলেন, তা হলো বাঙালির আত্মপরিচয়, বাংলা ভাষা। আমাদের সবাচাইতে বড় অহংকার। ভাষা বীর ভাষা মতিন আমাদের ইতিহাসের অনিবার্য নায়ক।

বাঙালির ভাষা আন্দোলন আজ আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করেছে। বিশ্ববাসীর কাছে বাঙালির ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস পৌঁছে গেছে। সেই সঙ্গে পৌঁছে গেছে এই আন্দোলনের অগ্রনায়ক ভাষা সৈনিক আবদুল মতিনের নাম। তিনি বাঙালির কাছে চিরকাল ‘ভাষা মতিন’ হিসেবে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবেন। বাংলা ভাষার মতিনকে বাঙালি জাতি কখনো ভুলে থাকতে পারবে না। বিপুল আয়োজনের মধ্য দিয়ে হয়তো কেউ স্মরণ করবে না এখন। কিন্তু, সময় আসবে ইতিহাসের প্রয়োজনে, রাষ্ট্রে প্রয়োজনে, দুর্নীতি-দুবৃত্তায়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনে, কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের মুক্তির প্রয়োজনে আপনাকে স্মরণ করতেই হবে। মওলানা ভাসানী পরবর্তী স্বার্থক রাজনৈতিক পুরুষ হিসাবে ইতিহাস তার প্রয়োজনেই আপনাকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করবে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে বাংলা ভাষাকে ভাষা মতিন সমৃদ্ধ করেছে সেই ভাষার মধ্যেই বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন প্রতিটি বাঙালির মানসপটে ভাষা মতিন।

বাঙালীর ভাষা আন্দোলন আজ আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করেছে। বিশ্ববাসীর কাছে বাঙালীর ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস পৌঁছে গেছে। সেই সঙ্গে পৌঁছে গেছে এই আন্দোলনের অগ্রনায়ক ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের নাম। তিনি বাঙালীর কাছে চিরকাল ‘ভাষা মতিন’ হিসেবে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবেন। ভাষা আন্দোলন দমাতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ভাষা মতিনকে সিএসপি বানানোর গোপন প্রস্তাব দেওয়া হয়, যার শর্ত ছিল তিনি ভাষা আন্দোলন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেবেন। কিন্তু বাঙালির অধিকার আন্দোলনে তিনি ছিলেন আপসহীন। ব্যক্তিস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে তাই তিনি বাংলা ভাষার স্বীকৃতি আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন।

শুধু রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে যেন কাউকে সম্মান জানাতে আমরা কার্পণ্য না করি। মনে রাখতে হবে, ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন কখনো জাতির সঙ্গে কিংবা মেহনতি জনগণের সঙ্গে কখনোই বেইমানি করেন নাই। এই জাতিকে সারা জীবন শুধু দিয়েই গেছেন, কিছুই নেননি। লোভের কাছে কখনোই পরাস্ত হননি। এমনকি মৃত্যুর পর নিজের দেহ ও চোখ দুটোকে পর্যন্ত দান করে দিয়ে গেলেন মানবকল্যাণে। স্বাধীনতার এই অন্যতম রূপকারকে ‘রোল মডেল’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের সুযোগ এখনো আছে। যেই মহান সূর্যদীপ্ত তরুণ ভাষা সংগ্রামের অগ্রণী ছিলেন, তিনি শুধু ভাষাসৈনিক নন; ভাষা সেনাপতি। চৌহালী উপজেলার ‘গেদু’ থেকে বাঙালির ‘ভাষা মতিন’ হয়ে ওঠা এই মহান ও অকুতোভয় নেতার আদর্শ আমাদের প্রেরণার উৎস। যতদিন বাংলা আর বাঙালি রবে, ততদিন তিনি রবেন অমর, অম্লান। আজকের প্রজন্মের পক্ষ থেকে তার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে অমর স্মৃতির প্রতি গভীরতম শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

[(লেখক : রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক )
E-mail : gmbhuiyan@gmail.com]

Tags: ১১তম
Abdul Halim Nisun

Abdul Halim Nisun

Next Post
ঝিনাইগাতী মহারশি নদীর স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

ঝিনাইগাতী মহারশি নদীর স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

Recommended

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে

5 years ago
প্রতিপক্ষের দাপটে দীর্ঘদিন থেকে বাড়িছাড়া অসহায় এক পরিবার

প্রতিপক্ষের দাপটে দীর্ঘদিন থেকে বাড়িছাড়া অসহায় এক পরিবার

3 years ago

জনপ্রিয় খবর

  • মাসে দুইবার এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি জনস্বার্থ বিরোধী : বাংলাদেশ ন্যাপ

    মাসে দুইবার এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি জনস্বার্থ বিরোধী : বাংলাদেশ ন্যাপ

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বোরহানউদ্দিনে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত-৩

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বাংলা নববর্ষ উদযাপনে সেকালের আন্তরিকতা ও একালের আধুনিকতা 

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • শিশুরা সবকিছু হতে চাইলেও,কেউ সাংবাদিক হতে চায়না: আহমেদ আবু জাফর

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • কঠোর লকডাউনে নরসিংদী জেলা প্রশাসক তৎপর

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

Connect with us

Facebook Twitter Youtube RSS

প্রধান কার্যালয়

ডেইলি সকালের কাগজ

২১, রাজউক এভিনিউ, পরিবহণ ভবন (৬ষ্ঠ তলা)
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭৩৯৪১৭৫২৪, ০১৯৪৩৩৩৬৮১৩

সম্পাদক ও প্রকাশক

আব্দুল হালিম নিশান

ইমেইল: dailysokalerkagoj@gmail.com
বার্তা বিভাগ : হাজী নেকবর আলী সুপার মার্কেট,পঞ্চম তলা,চিটাগাংরোড ,নারায়ণগঞ্জ ।
ds.kagoj@gmail.com

প্রধান উপদেষ্টা

মো: রূপালী খান

ব্যবস্থাপক : মো: মহিবুল্লাহ লিটন।
সহকারী সম্পাদক : মো: আরিফ বিল্লাহ ডালিম।
সহকারী সম্পাদক : রাজিবুল হাসান ।

© 2023 ALL RIGHTS RESERVED | DAILYSOKALERKAGOJ.COM.

No Result
View All Result
  • হোম
  • বাংলাদেশ
    • জাতীয়
    • এক্সক্লুসিভ
    • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • দেশজুড়ে
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • রাজশাহী
    • সিলেট
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
    • বিশ্বকাপ
    • ক্রিকেট
    • ফুটবল
    • টেনিস
    • হকি
  • অর্থনীতি
    • বিশ্ব অর্থনীতি
    • বিজনেস বিশেষ
    • শেয়ার বাজার
    • ব্যবসা-বাণিজ্য
    • ব্যাংক-বীমা
  • আরো সংবাদ
    • লাইফস্টাইল
      • রেসিপি ও রেস্তোরা
      • ফ্যাশন
      • রুপচর্চা
      • অন্যান্য
    • বিচিত্র জগত
    • শিক্ষাঙ্গন
    • সাহিত্য
    • ধর্ম
    • স্বাস্থ্য
    • অপরাধ
    • দুর্ভোগ
    • নারী
    • মতামত
    • চাকুরি
    • প্রবাস
    • আইন আদালত
    • তথ্যপ্রযুক্তি

© 2023 ALL RIGHTS RESERVED | DAILYSOKALERKAGOJ.COM.

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
ভাষা