সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
আসছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন’কে সামনে রেখে ৩নং ওয়ার্ডের দুইজন বিএনপির সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আলোচনায়।
কাউন্সিলর নির্বাচনে জনসেবার সুযোগ পেতে দুইজন বিএনপি প্রার্থী সাধারন জনতার মূখে মূখে। সম্ভাব্য প্রতিযোগীদের মধ্যে দুইজন প্রকাশ্যে মাঠ প্রস্তুতি নিতে শোনা গেছে।
নয়াআটি,রসুলবাগ,বাঘমাড়া,নিমাইকাসারি, সানারপাড় লন্ডন মার্কেট, এলাকায় সরেজমিনে তদন্ত করে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩নং ওয়ার্ডের বিএনপির সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে বিএনপি দলীয় দুইজন, জামায়াতে ইসলামীর একজনের নাম খালেকুজ্জামান আলোচনায় উঠে এসেছে।
এবারের প্রতিযোগীদের মধ্যে রয়েছেন- সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রিপন সরকার ও অপর জন নাসিক ৩নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা এড হাবিবুর রহমান।
প্রার্থী হবার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সম্ভাব্য বিএনপি কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ও নাসিক ৩নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদ প্রার্থী রিপন সরকার জানিয়েছেন, ওয়ার্ডবাসীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কাজ করে যাচ্ছি। স্থানীয়রা এবার আমার উপর ভরসা রাখতে চায়। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও ভুমিদুস্য জনগণ ক্ষমতা দেখতে চায় না। আমি নির্বাচন করে জয়ী হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।
নাসিক ৩নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা এড হাবিবুর রহমান জানান, আমার ওয়ার্ডের ভোটাররা আমার উপর ভরসা রেখেছেন। জনগণের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। আমি বিশ্বাস করি জনগণ ভুল করবে না তারা এবার সরকার দলীয়কে বিজয়ী করে প্রমাণ দিবে।
এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান তিনি ৩নং ওয়ার্ডের রসুলবাগ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
২০১৬ সালে সফলতার সাথে নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ কোর্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সাথে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত লাইব্রেরি সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ছাত্র ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ফোরামের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি নারায়ণগঞ্জ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত সরকারের আমলে তিনি বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও জানা যায়।
এ বিষয়ে তাঁর সাথে আলোচনায় করলে তিনি জানান, ৩নং ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়নে তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি ৩নং ওয়ার্ডকে দেশবাসীর কাছে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চান। ওয়ার্ডের অসমাপ্ত রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা, যেসব স্থানে এখনো আরসিসি ঢালাই রাস্তা হয়নি সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত মরহুম আব্দুস সামাদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান।
তিনি আরও বলেন, একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তিনি দৃঢ় ভূমিকা রাখতে চান। নির্বাচনের আগেই ওয়ার্ডের যেসব এলাকায় এখনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সড়ক বাতি স্থাপন হয়নি, সেগুলো স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে মাননীয় প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন।
শেষে তিনি ৩নং ওয়ার্ডবাসীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, তাঁকে নির্বাচিত করলে তিনি এলাকার উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন এবং ওয়ার্ডবাসীর কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন।
উল্লেখ্য; ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলরদের অপসারণ করে তৎকালীন অন্তবর্তী সরকার। এরপর হতে গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডটিতে নাগরিক সেবাসহ অন্যান্য সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহন করতে বেশ সমস্যা সৃষ্টি তৈরি হয়েছে।
কাউন্সিলরের অবর্তমানে সচিব নিয়োগ দেওয়া হলেও মানুষের ভোগান্তি চরমে পযার্য়ে। তাই আসছে নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে বিজয়ী করার ভাবনায় রয়েছে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। এদিকে ওয়ার্ডটিতে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটার রয়েছে বলেও জানা গেছে।




