বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী হলেও বাংলাদেশে মূল্য সমন্বয়ের নামে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির সরকারী সিদ্ধান্তের তীব্রসমালোচনা করে তারা বলেন, ‘বিশ্ববাজারে যেই মুহুর্তে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস পাচ্ছে, ঠিক সেই মহুর্তে বাংলাদেশে মূল্য সমন্বয়ের নামে রবিবার থেকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা অত্যন্ত দুঃখজনক ও জণস্বার্থ বিরোধী। যখন নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে হাঁসফাঁস করছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের জ্বালানি মন্ত্রী প্রমান করলো আসলে জনগণের কষ্ট তাদের হৃদয়কে স্পর্শ করে না। তারা শাসক হয়ে শোষকের ভুমিকা পালন করতে সাচ্ছন্দ বোধ করে।’
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ‘একেই অক্টেন-পেট্রোল-ডিজেলে রক্ষা নেই, ‘গোদের উপর বিষ ফোড়াঁ’ গরিবের কেরোসিনও বাদ পড়ে নাই। নীলাভ তরলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য তেলের অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করা নতুন একটি বোঝা বা ‘বিষফোড়াঁ’র মতো হয়ে দাঁড়াবে। ’
তারা বলেন, এ্কই সাথে কৃষি ও শিল্প খাতে সেচ এবং মেশিনের জন্য জ্বালানি প্রয়োজন হয়। মূল্যবৃদ্ধির ফলে, শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের মূল্যে প্রতিফলিত হবে। এতে বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে কৃষি খাতও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে। সেচ, পরিবহন ও কৃষি উপকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে বাধ্য।’
বিবৃতিতে ‘জনগণের সার্বিক অবস্থার কথা চিন্তা করে অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ ন্যাপ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানায়।’




