গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ঝড়ের চার দিন পার হলেও উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হয়নি। ফলে অন্ধকারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজারো গ্রাহক। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার তারাপুর, দহবন্দ, শান্তিরাম, সোনারায়, বামনডাঙ্গা, বেলকা ইউনিয়নসহ সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ওপর দিয়ে তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ের সময় গাছ উপড়ে পড়ে ও ডাল ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় বিভিন্ন স্থানে তার ছিঁড়ে যায় এবং খুঁটি ভেঙে পড়ে। এতে উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম ও মহল্লার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ঝড়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপজেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা সম্ভব হলেও গ্রামাঞ্চলের বহু এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছেনি। বিশেষ করে দহবন্দ, শান্তিরাম ও বেলকা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে চার দিন ধরেও বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে উপজেলায় অন্তত ২২টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে ও ৮টি খুঁটি হেলে পড়েছে। এছাড়া ১২টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে এবং প্রায় ২০০ স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে বা ডাল ভেঙে তার ছিঁড়ে গেছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের প্রায় ২০০টি বৈদ্যুতিক মিটার নষ্ট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অর্ধশতাধিক খুঁটি হেলে পড়েছে, যা মেরামতে সময় লাগছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ জন শ্রমিক দিনরাত কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১১টি স্থানে মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দহবন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা বাবু মিয়া বলেন, চার দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইল, ল্যাপটপ, ফ্যান, ফ্রিজ, রাইস কুকার সব বন্ধ হয়ে আছে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঈদের আগে এমন পরিস্থিতিতে খুব কষ্টে আছি।
দক্ষিণ ধুমাইটারী গ্রামের অটোভ্যান চালক মোনারুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় চার দিন ধরে অটোভ্যান চার্জ দিতে পারছি না। ফলে গাড়ি চালানো বন্ধ রয়েছে। আয়-রোজগার একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। ঈদের আগে পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
স্থানীয় কম্পিউটার ব্যবসায়ী খলিল মিয়া বলেন, কম্পিউটারের ব্যবসার ওপরই সংসার চলে। চার দিন ধরে দোকানের কাজ বন্ধ। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু না হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রামের অনেক পরিবার রাতে অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক এলাকায় মোবাইল চার্জ দিতে কয়েক কিলোমিটার দূরে যেতে হচ্ছে। ফ্রিজ বন্ধ থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে খাদ্যসামগ্রী। পানির মোটর বন্ধ থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. আব্দুল বারী বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত সবকিছু মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। ১৮ মে থেকে আমাদের ৪০ জন জনবল দিনরাত কাজ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত বাকি গ্রামগুলোতেও বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।




