সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সমন্বয়ক ও সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসডিপি)’র আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি)’র মহাসচিব হারুন আল রশিদ খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উন্মুক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০১৭ সালের ১৭ই নভেম্বর গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য জোট গঠিত হয়। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০২২ সালের ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে চারটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কমরেড হারুন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক-বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), কমরেড সামছুল আলম, সাধারণ সম্পাদক-সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, আবুল কালাম আজাদ, আহবায়ক–সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসডিপি) ও হারুন আল রশিদ খান, মহাসচিব-প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি) জোট গঠন করে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের শপথ গ্রহণ করে।
গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য জোটের শরিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা শত জুলুম নির্যাতনের মুখে রাজপথে অবস্থান করে ৫ আগস্ট ২০২৪ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়ে ঘরে ফিরে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা শুরু করলে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য রাজপথে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে বাধ্য করে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এই দীর্ঘ পথচলায় গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য জোটে সবকিছু নিয়মতান্ত্রিক ভাবে চলে আসছিল, চার মাস অন্তর অন্তর সমন্বয়ক পরিবর্তন নিয়ম মতো হয়ে আসছিল। জোট শরিকদের কোন সংকট দেখা দিলে চার দলের শীর্ষ প্রতিনিধি কমরেড হারুন চৌধুরী, কমরেড ডাঃ সামছুল আলম, আবুল কালাম আজাদ ও হারুন আল রশিদ খান জরুরী সভায় মিলিত হয়ে আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সংকট নিরসন করা হত। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর যুগপৎ আন্দোলন চলাকালীন বিএনপির অঙ্গীকার, আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠন একসাথে।
কমরেড ডাঃ সামছুল আলম স্বেচ্ছাচারী ভাবে ২৬/০৬/২০২৬ইং মিটিং দেখিয়ে আবুল কালাম আজাদের সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি কে জোট থেকে অব্যহতি দিয়ে কমরেড হারুন চৌধুরী কে পরবর্তী সমন্বয়ক ঘোষণা করে। কমরেড ডাঃ সামছুল আলমের চরম স্বেচ্ছাচারী আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এর ফলে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য জোট ভাঙ্গার দায় কমরেড ডাঃ সামছুল আলম কেই বহন করতে হবে।
দীর্ঘ সতেরো বছর ফ্যাসিবাদী শাসন পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আঠারো মাসের শাসন দুর্নীতি লুটপাট অর্থ পাচারের দেশের অর্থনীতি ধ্বসে পরেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নাই। সকল ধরনের অপরাধ বেড়ে গেছে। একের পর এক কল কারখানা বন্ধ, নতুন বিনিয়োগ নাই বেকার বাড়ছে। ৫ আগস্ট ২৪ এর পর থেকে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। প্রতিবেশী ভারতীয় সীমান্তে পুশইন মায়ানমার সীমান্তে গৃহযুদ্ধ। মার্কিন চুক্তি ভূরাজনীতির নিত্য নতুন মেরুকরণ দেশি-বিদেশি চক্রান্ত সব দায় কাঁধে নিয়ে বিএনপি সরকারের সংকটময় পদযাত্রা। বিএনপি সরকার আমাদের সরকার, ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার আমাদের যুগপৎ আন্দোলনের সকল অংশীজনের অঙ্গীকার। এই সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার দায় গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য এড়াতে পারে না। যখন গণতান্ত্রিক বাম প্রগতিশীল শক্তির ইস্পাত দৃঢ় ঐক্য জরুরী তখন জোট ও দল নিয়ে নোংরা রাজনীতি কারো মঙ্গল বয়ে আনবে না। পরিশেষে আমাদের একটাই কামনা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অটুট ও সাধারণ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা।




