পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা এবং অসম্মান করার প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পঞ্চগড় জেলা ইউনিট কমান্ড।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় পঞ্চগড় শহীদ মিনার চত্বরের সামনে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কে জেলা ইউনিট কমান্ড বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে জেলার পাঁচটি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানেরা অংশ নেন।
বক্তারা ঘটনাটির তীব্র ধিক্কার জানিয়ে অবিলম্বে দাফনে বাধাদানকারী চক্রটিকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় দেশব্যাপী আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করা হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুবরণ করলে তাঁকে পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করাই নিয়ম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, পিরোজপুরে স্বাধীনতা বিরোধী একটি চক্র বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রাপ্য সম্মান ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় ও সম্মান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে তাঁর শেষ বিদায়ে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তারা আরও বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনরায় গার্ড অব অনার দেওয়ার এবং এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা ইউনিট কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের সভাপতি ইউনুস শেখ প্রমুখ।
এ সময় জেলার পাঁচ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানসহ বিভিন্ন ইউনিটের কমান্ডাররা অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী ইন্তেকাল করার পর তাঁর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদেই পঞ্চগড়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।




