এভিয়েশন ও পর্যটনের সম্ভাবনা-সংকট নিয়ে চ্যানেল আইয়ের ‘আমরাই বাংলাদেশ’ টকশোতে কথা বলেন ইউএস বাংলার জিএম কামরুল ইসলাম ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালাউদ্দিন সুমন।
দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিপুল সম্ভাবনাময় পর্যটন সম্পদ থাকা সত্ত্বেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশ এখনো এ খাতের কাঙ্ক্ষিত সুফল পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।
এভিয়েশন খাতের অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, যাত্রীসেবা, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পর্যটন ব্র্যান্ডিং এসব বিষয় নিয়ে প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী আলোচনা হয়েছে চ্যানেল আইয়ের নিয়মিত টকশো ‘অতিথি গ্রুপ প্রেজেন্টস—আমরাই বাংলাদেশ’-এ।
হাফিজ রহমানের গ্রন্থনা, পরিকল্পনা ও সমন্বয়ে, সালাম মাহমুদের উপস্থাপনায় আমরাই বাংলাদেশ টকশোতে এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার কামরুল ইসলাম এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ব্র্যান্ড প্রমোটর সালাহউদ্দীন সুমন।
এ দুই অতিথি তাঁদের নিজ নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের এভিয়েশন ও পর্যটন শিল্পের বর্তমান বাস্তবতা, সম্ভাবনা, সংকট এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আলোচনায় উঠে আসে, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু পর্যটন স্পটের উন্নয়ন করলেই হবে না; এর সঙ্গে বিমান যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক রুট, যাত্রীসেবা, হোটেল ও হসপিটালিটি অবকাঠামো, পর্যটন নিরাপত্তা, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক মার্কেটিংকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে হলে দেশের পর্যটন সম্পদকে আধুনিক ও সৃজনশীল উপায়ে বিশ্ববাজারে তুলে ধরার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ভূমিকা বর্তমান সময়ে পর্যটন প্রচারে কতটা গুরুত্বপূর্ণ; আলোচনায় সে বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে কক্সবাজার, সুন্দরবন, সেন্টমার্টিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, কুয়াকাটা, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসহ অসংখ্য আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে।
কিন্তু এসব গন্তব্যকে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজন পরিকল্পিত অবকাঠামো, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, মানসম্মত আবাসন, প্রশিক্ষিত পর্যটনকর্মী এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা।
এভিয়েশন খাতের প্রসঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে দেশের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের বিমান যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তা। আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিমান যোগাযোগকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে আলোচনায় মত উঠে আসে।
কারণ, একটি শক্তিশালী এভিয়েশন ব্যবস্থা শুধু যাত্রী পরিবহনের মাধ্যম নয়; এটি ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। একটি দেশের বিমান যোগাযোগ যত বেশি বিস্তৃত ও কার্যকর হয়, সেই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
অন্যদিকে পর্যটন শিল্পের বিকাশের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সম্পর্কও গভীর। একটি পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে পরিবহন, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা, হস্তশিল্পসহ অসংখ্য খাতের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে পরিকল্পিত পর্যটন উন্নয়ন দেশের অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক অবদান রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে পর্যটন প্রচারের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। বর্তমানে একজন পর্যটক কোনো দেশে ভ্রমণের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। ফলে বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোর ইতিবাচক গল্প, স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার, প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও আতিথেয়তাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে মানসম্মত কনটেন্টের বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে নির্বাহী প্রযোজক আমিনুল ইসলাম রাজু ও প্রযোজনায়-কামরুজ্জামান রিপন।
এ ক্ষেত্রে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ব্র্যান্ড প্রমোটরদের কার্যকর ভূমিকার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্র্যান্ডিং করতে হলে প্রচলিত বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি গল্পনির্ভর, তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করা প্রয়োজন বলে আলোচনায় উঠে আসে।
এ ক্ষেত্রে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ব্র্যান্ড প্রমোটরদের কার্যকর ভূমিকার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্র্যান্ডিং করতে হলে প্রচলিত বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি গল্পনির্ভর, তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করা প্রয়োজন বলে আলোচনায় উঠে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে হবে। এভিয়েশন, পর্যটন, হসপিটালিটি, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, গণমাধ্যম ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের সমন্বিত উদ্যোগ এ খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
‘আমরাই বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানের এ পর্বে এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের নানা বাস্তব সমস্যা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা দর্শকদের সামনে উঠে আসে। আলোচনার মধ্য দিয়ে দেশের এভিয়েশন ও পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।
চ্যানেল আইয়ের নিয়মিত এই আয়োজন ‘আমরাই বাংলাদেশ’ দেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাত, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন, অর্থনীতি ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের এই আলোচনা শুধু একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাংলাদেশের পর্যটন ও বিমান যোগাযোগকে ঘিরে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার বিষয়ে একটি বৃহত্তর আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বাস্তবভিত্তিক নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে এভিয়েশন ও পর্যটন খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে—এমন প্রত্যাশাই উঠে এসেছে অনুষ্ঠানের আলোচনায়।



