স্টাফ রিপোর্টার-¤
রাজধানীর ডেমরায় ইমোরটোফ্লেক্স নামে চিপস ও চানাচুরসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের প্যাকেট তৈরির পলিস্টার প্যাকেজিং কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল (৩০ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার দুপুরে আমুলিয়া মডেল টাউনের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় সুজন নামে এক শ্রমিক গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে ডেমরা ফায়ার সার্ভিস সহ ফায়ার সার্ভিসের ৮ টি টিম ঘটনাস্থলে এসে দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরবর্তীতে বিকাল ৫ টার মধ্যে আগুন নির্বাপন করতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।
এ সময় আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য পায়ে আঘাত পেয়ে আহত হয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। তবে আগুন লাগার পর ডেমরা ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করলে এক ঘন্টা পর বাকি সাতটি ইউনিট পর্যায়ক্রমে ঘটনাস্থলে আসে। এরি মধ্যে ওই কারখানার মেশিন ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
বিশেষ করে কারখানাাটিতে ধার্হ্য পদার্থ থাকার কারণে আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রিন্টিং মেশিনে যন্ত্রাংশের ঘর্ষণের ফলে ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বড় বড় প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মত ইমোরটোফ্লেক্স পলিস্টার প্যাকেজিং কারখানায় ফায়ার সার্ভিসের সেফটি প্ল্যান ছিলনা।
তাছাড়া কারখানাতে প্রিন্টিং, এলডি, লেমিনেশন ও পাউসসহ মোট ৪ চারটি মেশিন ছিল একটি ইউনিটে। মূলত প্রিন্টিং মেশিন থেকেই আগুন ছড়িয়ে গেছে। এক্ষেত্রে ট্রের মধ্যে থাকা কেমিক্যাল এর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে কারখানায় থাকা ফায়ার এক্সটিং গুসার দিয়ে প্রথমে শ্রমিকরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। তারা যদি শুরুতেই ফায়ার সার্ভিসে খবর দিত তাহলে আগুন নিয়ন্ত্রণে এত বেগ পেতে হতো না।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের সরকারি পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, কারখানাটিতে ফায়ার সার্ভিসের সেফটি প্ল্যান ছিল না। এছাড়া আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ চোঁখে পড়েনি। তবে এখানে কর্তৃপক্ষ কিভাবে কারখানাটি স্থাপন করেছে সে বিষয়টি আমরা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনব। কারখানাতে যদি সেফটি প্ল্যান থাকতো তাহলে কিভাবে অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন নিয়ন্ত্রণ করবে বা কি কি যন্ত্রপাতি থাকবে তাঁর সবকিছুই ব্যবস্থা থাকত এখানে। এখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। তবে মালিকপক্ষের কাছ থেকে জানা গেছে পাঁচ ছয় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে সকল তথ্য নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে ঘটনাস্থলের পর পরিদর্শন করতে এসে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এভাবে ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউনের মত নিরিবিলি এলাকায় সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তরের অনুমতি বাদে এ কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কারখানা তদারকির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর বিনা অনুমোদনে নিরাপত্তাহীনভাবে এই কারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য মালিকদের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ডেমরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মুরাদ হোসেন পিপিএম বলেন, আহত ব্যক্তি’কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটি ভর্তি করা হয়েছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে।




