শেরপুর ঝিনাইগাতী উপজেলায় ফাকরাবাদ একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত জমি জবরদখলের অপচেষ্টা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
প্রায় ৩৩ বছর ধরে বিদ্যালয়টি এ জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছে, সেই জমি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন মুন্নাফ নামের এক ব্যক্তি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সালমা আক্তার জানান, ১৯৮৯ সাল থেকে উক্ত জমি ফাকরাবাদ একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ রয়েছে। এবং দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রমের প্রয়োজনে ব্যবহার হয়ে আসছে।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, অভিযুক্ত মুন্নাফকে কখনোই বিদ্যালয়ের জমিতে বসবাস বা জায়গা দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, মানবিক বিবেচনায় জমিদাতা আলহাজ্ব আনসার আলী তাঁর নিজ মালিকানাধীন অন্য একটি জমিতে, যা বিদ্যালয়ের জমির সঙ্গে সংলগ্ন—মুন্নাফকে পরিবারসহ বসবাসের সুযোগ দেন।
সেই জমিতেই মুন্নাফ ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। অথচ বর্তমানে তিনি সেই মানবিক সহায়তাকেই পুঁজি করে বিদ্যালয়ের জমি নিজের দাবি করে জবরদখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
সম্প্রতি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সীমানা নির্ধারণকারী বাউন্ডারি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং কাঁটাতারের বেড়া কেটে ফেলে উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি দখলের চেষ্টা শুধু আইনবিরোধীই নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার ওপর সরাসরি আঘাত।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব দেখিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ কোনোভাবেই দেওয়া যায় না।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফাকরাবাদ একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত জমি স্থায়ীভাবে সুরক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন।




