আমিরুল ইসলাম কবির,গাইবান্ধা-¤
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বরেদ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গোবিন্দগঞ্জ জোন কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন এর রহস্যজনক কর্মকান্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী সঠিক তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তথ্যে সূত্রে, গাইবান্ধার বরেদ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গোবিন্দগঞ্জ জোন এর আওতায় পলাশবাড়ী উপজেলার ৪নং বরিশাল ইউনিয়নের পশ্চিম গোপিনাথপুর মৌজার জি এল নং ৮৩,দাগ নং ৩০২ এ বিগত ১৯৭৪ ইং সালে কৃষকদের সেচ সুবিধার্থে তৎকালীন সরকার একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন।
এক পর্যায় উক্ত নলকূপের যন্ত্রাংশ রহস্যজনকভাবে চুরি হয়। ২০২৩-২০২৪ ইং অর্থ বছরে বাবর ইন্টার প্রাইজ ঘোড়ামারা বোয়ালী রাজশাহী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গভীর নলকূপটির পাম্প ঘর মেরামত ও বাইজার ভাল্প স্থাপন করে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এর এক পর্যায় ম্যনেজার কর্তৃক অতিরিক্ত টাকা উঠানোর অভিযোগে কৃষকরা ম্যানেজার পরিবর্তনের জন্য জোর দাবী জানান।
এর মধ্যে ০২/১২/২০২৫ ইং বৈরীহরিণমারী গ্রামের খাজা মিয়া ম্যানেজার পরিবর্তনের দাবি এনে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গোবিন্দগঞ্জ জোন বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি সরকারি চাকরিতে থাকার কারণে ম্যানেজার হতে পারেন না।
এর ফলে একই গ্রামের তোছাদ্দেক হোসেন সরকার ১০/০২/২০২৬ ইং পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। এ ঘটনায় পূর্বের ম্যানেজার মাহাবুব এর পিতা আব্দুল মজিদ উক্ত নলকূপটি নষ্ট দেখিয়ে স্থানান্তরের জন্য গোবিন্দগন্জ জোন কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
সেই আলোকে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গোবিন্দগঞ্জ জোন কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন উক্ত নলকূপটি নষ্ট দেখান এবং তা স্থানান্তরের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করেন। ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং সকালে ঠিকাদার কর্তৃক নলকূপটি পূর্বের স্থান হতে ১০০ গজ দূরে ম্যানেজারের পিতা আব্দুল মজিদ এর জমিতে স্থানান্তরের জন্য সকল যন্ত্রাংশ ও মালামাল নিয়ে আসেন। এলাকাবাসীর বাধার মুখে ঠিকাদার মালামাল নিয়ে চলে যান। এরপর ১২ই ফেব্রুয়ারী উক্ত নলকূপ থেকে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা হয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত সেচ পানির কোন সমস্যা দেখা যায়নি বলে কৃষকরা জানান।
স্থানীয় কৃষকগণ দাবী করেন,সচল সেচ পাম্প নষ্ট দেখিয়ে অন্যত্র স্থাপন করলে লক্ষ লক্ষ টাকার মূল্যের গভীর নলকূপটি সামান্য টাকায় নিলাম দেয়া হতো। এতে সরকারের অনেক টাকা লোকশান হতো।
এ সংক্রান্ত খবর ইতিপূর্বে পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও অদ্যবধি কোন তদন্ত করা হয়নি বলে জানা যায়।
বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গোবিন্দগঞ্জ জোন কর্মকর্তার রহস্যজন কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই এলাকাবাসী উক্ত ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের জানান,তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে ভুক্তভোগী সহ সচেতন অভিজ্ঞ মহলের মনে করছেন এখানে কোনো গোপন রহস্য থাকতে পারে,তদন্তের করে ব্যবস্থা নেয়া হবে তা কথার কথা মাত্র। তবুও তারা বুক বেঁধে আছেন যাতে সঠিক তদন্তে জড়িত দোষীদের শাস্তি হয়। সে পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে বৈকি।।




