বাংলাদেশ জাতীয়তা বাদী দল (বিএনপি)’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটা কথা সব সময় মনে রাখতে হবে, বিএনপি হলো সেই রাজনৈতিক দল যে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছে।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি হলো সেই রাজনৈতিক দল, যে মিডিয়া গুলোর স্বাধীনভাবে লিখতে পারেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২১ দফাকে কেন্দ্র করে বেগম থালেদা জিয়া নতুন বাংলাদেশের রুপকল্প দিয়েছিলেন। ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা বাংলাদেশ তছনছ হয়ে গেছে। ভেঙ্গে গেছে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান। সেগুলোকে আবার নতুন করে গড়ে তোলার জন্য দেশের সব রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার জন্য, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তারেক জিয়া ৩১ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আজকে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলায় নতুন একটি বিএনপি’র কমিটি গঠন করবে। বিএনপি একদিকে নতুন পথ দেখাবে। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক ঠাকুরগাঁও প্রতিষ্ঠিত করবেন।
মহাসচিব আরো বলেছেন, বিএনপি দলকে শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য নিজদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কিংবা গ্রুপিং না হয়। দলকে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন দলের মহাসচিব।
এ সময় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্মেলনের সফলতা কামনা করেন এবং সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাসুজ্জামান দুদু বলেছেন, বিএনপির মধ্যে লুটপাট-দুর্নীতি নাই। মানুষ সবসময় বিএনপির পক্ষে। নির্বাচন হলে তারেক রহমানের দল জয়লাভ করবে। প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান।
দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাসুজ্জামান দুদু বলেছেন, বিএনপির মধ্যে লুটপাট-দুর্নীতি নাই। মানুষ সবসময় বিএনপির পক্ষে। নির্বাচন হলে তারেক রহমানের দল জয়লাভ করবে। প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে পালালেও রক্ষা পাবে না। গলায় গামছা দিয়ে নিয়ে আসব। টাকা নিয়ে গেছে। এখন ইলেকশনের চিন্তা ভাবনা করছে। গণহত্যা করেছে, টাকা চুরি করেছে, এখনো ক্ষমা চায়নি। হাসিনা ক্ষমা চাওয়ার আগে বলেছে টুস করে ঢুকে পড়বে। ঘর থেকে এনে জনতার আদালতে বিচার শুরু হবে। বিচার শুরু করেছে এ অন্তর্বর্তী সরকার। আসল বিচার করবে পরের সরকার।>>>>
সম্মেলন সফল করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালির মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি আগামীতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে জন সাধারণের প্রত্যেক সেক্টরে উন্নতির জন্য কাজ করার নিজস্ব কর্মসূচি রয়েছে।
সমাজে বেকারত্ব দূর করা, শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন, নারী সমস্যার সমাধান, মানুষের ভেতর থেকে জনবান্ধব নেতৃত্ব বের করে আনা, রাষ্ট্রের শাসকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে যা বিগত স্বৈরাচারী শাসন আমলে ছিল না।
এই সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচন যেভাবে কাউন্সিলরদের মতের প্রতিফলন, তেমনি বিএনপির আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকবে জনমতের প্রতিফলন, যা জনসাধারণের কল্যাণের একটা রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলবে। তিনি পরিপূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেন।
এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, আমিনুল ইসলাম ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড় জেলা সদস্য সচিব আরহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




