গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বৈশাখী মেলা উপলক্ষে যাদুর প্যান্ডেলের ভিতরে অশ্লীল নাচ, গান ও জমজমাট জুয়ার আসর বসার অভিযোগে প্যান্ডেল ভেঙে আগুন দিয়ে পুড়ে দিয়েছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসি।
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কৈ কাশদহ গ্রামের মটেরকুড়া নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বৈশাখ উপলক্ষে ওই গ্রামের মোটের কুড়ার (নালা) ওপর সাত দিনের জন্য মেলার আয়োজন করেন জাকির মিয়া ও গোলজার মেম্বার। দিনের বেলায় দোকানপাট, যাদু ও ম্যাজিক শো থাকলেও রাতে প্যান্ডেলে চলত নাচ-গান ও অশ্লীল নৃত্য। পাশাপাশি বসানো হত জুয়ার আসর। স্থানীয় এলাকাবাসি আয়োজক কমিটিকে এসব বন্ধের জন্য দাবি জানালে তারা বিষয়টি কর্নপাত না করে মেলা চালিয়ে যাচ্ছিল।
শুক্রবার রাতে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মাজেদুর রহমানের নেতৃত্বে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসি প্যান্ডেল ভেঙে আগুনে পুড়ে দেয়।
পরে উপস্থিত এলাকাবাসির উদ্দেশ্যে গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো.মাজেদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, এইসব অসামাজিক কার্যকলার্পের সাথে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার এমনকি থানা পুলিশ জড়িত রয়েছে। তিনি পুলিশকে আগামি ২৪ ঘন্টার মধ্যে উপজেলায় জুয়া বন্ধের হুঁশিয়ারী দেন।
রামজীবন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শামসুল হুদা সরকার বলেন, বৈশাখী মেলা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। মেলা শুরু হওয়ার পর চকিদার বিষয়টি তাকে অবগত করেছেন। মেলা ভেঙে দেয়ার ব্যাপারে তিনি চকিদার দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। মেলা আয়োজক কমিটির সাথে কয়েকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাদেরকে পাওয়া যায়নি।
থানার ওসি মো. হাকিম আজাদ বলেন, বেশাখী মেলার বিষয়টি পুলিশ জানে না। শুক্রবার বিকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাত নয়টার সময় মেলা বন্ধ করে দিয়ে চলে আসে। এরপর রাত ১০টার দিকে স্থানীয় জনতা একত্রিত হয়ে প্যান্ডেল ভাঙচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মেলার সাথে পুলিশের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি আরও বলেন উপজেলার কোথাও জুয়ার আসর চলে না।
উপজেলা নিবার্হী অফিসার রাজ কুমার বিশ্ববাস বলেন, বৈশাখী মেলার জন্য কোথাও কোন অনুমতি দেয়া হয়নি।




