নিজস্ব প্রতিবেদক-◊◊
রাজধানীর গোয়েন্দা পুলিশ কনস্টেবল মাসুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক সময়ের আলোচিত সমালোচিত গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হারুনের একান্ত ঘনিষ্ঠজন ছিলেন কনস্টেবল এই মাসুদ।
তিনি ৫ আগস্টের গণঅভ্যূত্থানের ছাত্র আন্দোলনের সময় ডিবি হারুনের একান্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন বলে এমনটি অভিযোগ গড়ে উঠেছে। তাঁকে নিয়ে নানা কারণে বিতর্কিত হলেও এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টারের বদলীর আদেশ পেলেও তাঁকে সরানো যাচ্ছে না। পুলিশ মাসুদ নানা উপায়ে তদবির বাণিজ্য দিয়ে একই অবস্থানে রয়েছেন দীর্ঘ বছর। কারণ তিনি এখনো অবৈধ উপায়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। এতে করে গোয়েন্দা বিভাগে থেকে তাঁর লোভ লালসা অনেকগুন বেঁড়ে গেছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সাইবার উত্তর বিভাগের পুলিশ কনস্টেবল মাসুদের ঢাকায় আলিশান ফ্যাট, একাধিক গাড়ি, পাবনা ধুলায় গ্রামে অঢেল সম্পদ, বিভিন্ন মানুষকে নির্যাতন করে মামলার হুমকিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করেছেন এলাকার সাধারণ জনগণ।
উল্লেখ্য; পুলিশ কনস্টেবল নম্বর (৭৪৬২) নাম মোঃ মাসুদুর রহমান খান, বিপি নং-(৮২০২০৪৭৮২৬)।
সাবেক ডিবি প্রধান হারুন এবং ছাত্রলীগ নেতা কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হাসানুজ্জামান সোহাগ তাঁর একমাত্র ভাগ্নের দাপটে নানা উপায়ে ক্ষমতা প্রয়োগ করে মাসুদ কোটিপতি বনে গেছেন ।
অবৈধভাবে টাকা কামিয়ে পাবনা ধুলায় নিজ গ্রামে প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করছেন বিলাসবহুল বাড়ি, রয়েছেন একটি প্রাইভেটকার গাড়ি, দুইটি দোকান এবং আলিশান ফ্যাট, হাউস-৩৮, রোড-১/এ, নবীনগর হাউজিং মোহাম্মদপুর, ঢাকা । এমন অবৈধ কালো টাকার পাহাড় গড়েছেন। এত বিশাল বিত্ত-বৈভব ও অর্থ সম্পদের মালিক হলেও আলাদিনের চেরাগ পাওয়া এই পুলিশ কনস্টেবল মাসুদ রয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টির আড়ালে।
জানা গেছে, ডিবি হারুনের সাথে ডিউটিরত অবস্থায় প্রায় সময়ই দেখা যেতো মাসুদকে। ইতিপূর্বেও সরকার পতনের ৪ অগাস্টের যাত্রাবাড়ীতে দেখতে পাওয়া যায়।
তৎকালীন সময়ে ডিবি হারুনের সাথে আগস্টের ৪ তারিখে যাত্রাবাড়ীতে মাসুদের গুলিতে ৫ জন ছাত্র আহত হওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।ডিবি প্রদান হারুন পালিয়ে গেলেও মাসুদ এখনো আছে বহাল তবিয়তে। ডিএমপিতে ১২ বছর ধরে আছেন মাসুদ, কিন্তু নিয়ম আছে দুই বছর পর থেকে বদলির আদেশ।
এবিষয়ে স্থানীয় ও সচেতন মহল বলছেন, সাধারণ পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি করে ঘুষ বানিজ্যে ছাড়া বাড়ি,গাড়ি,জমি এত কিছু করা সম্ভব নয়।
এলাকাবাসীর হাসান নামের একজন বলেন, আমাদের একজন ভাই পুলিশের চাকরি করে সে ঠিকমতো সংসার চালাতে হিমশিম খায়, সাধারণ একটি বাড়িই করতে পারেনা তাহলে মাসুদ কিভাবে এত কিছু করল! বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত করে বের করা উচিৎ।
একজন ভুক্তভোগী সবুজ বলেন, মোহাম্মদপুর নবীনগর হাউজিং এক এবং দুই নাম্বার রোডে চালায় অবৈধ মাদক ব্যবসা এবং নারী ব্যবসা, এইসব ব্যবসা দেখার জন্য আছে কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন মাসুদ নিজেই। এই কিশোর গ্যাং গ্রুপই রাতে ছিনতাই করে বলে এমনটি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন বলেন, বেশ কয়েকদিন আগে মাসুদ ৩০ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেটকার গাড়ি কিনেছেন গাড়ি বাড়িতেই থাকতো বর্তমানে গাড়িটি অন্যকোথাও লুকিয়ে রেখেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাগর বলেন, এত অল্প সময়ে পুলিশ কনস্টেবলের বাড়ি, গাড়ি, টাকার মালিক কিভাবে হলেন, আমাদের বোধগম্য নয়! দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্তের মাধ্যমে তাঁর সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তাঁকে শাস্তির আওতায় আনা হোক। এই দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর পুলিশের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই হুমকি-ধামকি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করবে বলে দাপট দেখায়। তাঁদের ভয়ে এলাকায় কেউ কিছু বলতে পারেনা, আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মাসুদের সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সে মুঠোফোনে রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ(ডিএমপি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, পুলিশ কনস্টেবল মাসুদের বিরুদ্ধে আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি, অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে, দোষী হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




