ইবতেদায়ী শিক্ষা জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্তকরনের কাজ চলমান রয়েছে উল্লে্খ করে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল দাখিল মাদ্রাসার হলরুমে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় দেশে হাজার হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। একই সময়ে সরকারি প্রাইমারী স্কুলের পাশাপাশি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। আগের সরকারের আমলে সকল রেজিস্টার্ড স্কুল সরকারি হয়েছে। আর ইবতেদায়ী মাদ্রাসার অবস্থা কী তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার চিঠি দেয়, নতুন করে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার কোড নম্বর দেয়া যাবে না। মাদ্রাসা বন্ধ। এর কারণ ছিল, ইবতেদায়ী হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষার সাপ্লাই লাইন। সাপ্লাই লাইন যদি বন্ধ হয়, তাহলে উপরের লাইনটিও বন্ধ হয়ে যাাবে। বিভিন্ন জায়গায় বিল্ডিং দিয়েছে, এটা লোক দেখানো। উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে ছাত্র থাকবে না, তখন এই বিল্ডিং স্কুলে রূপান্তরিত করা হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান তিনি বলেন, আপনাদের সন্তানেরা জীবন দিয়ে পরিবর্তন ঘটালো। যাকে আমরা বিপ্লব বলছি। আসলে আমরা কি বিপ্লব করেছি? আমাদের চিন্তাজগতে, ভাবনার জগতে, কর্মের জগতে আমাদের কোনো পরিবর্তন এসেছে? তাহলে তো বিপ্লব হয়নি। বিপ্লব মানেই পরিবর্তন। আপনি ২৪’র আগষ্টের আগে যা ভাবতেন, যা করতেন; এখনো যদি তা ভাবেন, আর করেন, তাহলে তো কোনো পরিবর্তন হয়নি।
মিঞা মো. নুরুল হক বলেন, আজ এখানে এধরনের একটি প্রোগ্রামের চিন্তাও করা যেত না। যদি না ২৪ এর বিপ্লব সংঘটিত হতো। তিনি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি এ ধরনের প্রোগ্রাম করা হলে সেখানে জঙ্গি নাটক সাজানো হতো। বিগত আমলের শাসকদের প্রধান শত্রু ছিল আলেম ওলামারা। কারণ, তারা জানত আলেম ওলামারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে জননগণকে জাগিয়ে তুলবে। তাই তারা আলেমদেরকে প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। আলেমদেরকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নানা রকমের নিপীড়ন নির্যাতন করেছে। অনেক নিপীড়ন নির্যাতনের পরে, আল্লাহ দয়া করে আমাদের সন্তানদের আবাবিল রূপে পাঠিয়ে অত্যাচারী জালিম শাসকের হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করেছেন।
মাদ্রাসার চেয়ারম্যান বলেন, যারা রক্ত দিয়েছে তাদের চাওয়া ছিল একটি শোষণমুক্ত সমাজ। আমাদেরকে সেই শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য কাজ করে যেতে হবে। বিগত শাসকরা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে গলা টিপে হত্যা করেছে। তারা মাদ্রাসার সার্টিফিকেট এবং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সার্টিফিকেটের ভিতরে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। যার ফলে ছাত্ররা আর মাদ্রাসায় পড়তে আগ্রহী হত না। বেশিরভাগ মাদ্রাসার ছাত্ররা মাদ্রাসার পাশাপাশি বিভিন্ন কলেজ ও ভার্সিটিতে পড়ালেখা করত। তারা আলেম পাশের পর পরে বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় চলে যেত। এতে করে অনেক মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেছে, শিক্ষকরা চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কায় অন্যত্র চলে গেছে। বিগত ১৫ বছরে মাদ্রাসার সার্টিফিকেট দিয়ে কোথাও কোন চাকরি হতো না। মাদ্রাসার সার্টিফিকেটের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। মাদ্রাসার ছাত্ররা মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যেত।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পঞ্চগড় সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফুল কবীর মো. কামরুল হাসান, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইন, জগদল দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, পঞ্চগড় নুরুন আলা নুর কামিল মাদ্রাসার সাবেক উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. মফিজউদ্দীন প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার সকল মাদ্রাসার প্রধান ও সহকারি শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।