পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি ছিল অর্থনৈতিক মুক্তির দর্শন। শহীদ জিয়ার নির্দেশিত কৃষি বিপ্লব আমাদের খাদ্য স্বনির্ভরতার পথে নিয়ে গিয়েছিল। যদি আমরা আবারও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে চাই, তবে তাঁর দর্শনে আমাদেরকে ফিরে গিয়ে কৃষি উৎপাদন ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হবে।
তিনি গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় জেলার বোদা পৌরসভাধীন পাথরাজ কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে দুলালতলী বাঁধ নামক স্হানে ১৯৮০ সালে শহীদ জিয়া কর্তৃক উদ্বোধনকৃত পথরাজ নদীর খনন এলাকা পরির্দশন এবং পাথরাজ নদী খাল খননের সময় বিশ্রাম নেওয়া সেই ঐতিহাসিক স্হানে স্মৃতিচারণকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ১৯৮০ সালে তৎকালীন জিয়াউর রহমান পাথরাজ খাল খননে কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। বর্তমানে অনেক খাল ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় শুধু বোদা উপজেলা নয়, দেশব্যাপী সেচ ব্যবস্থায় ঘাটতি ও জলাবদ্ধতা বেড়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় শুধু বোদা উপজেলা নয়, দেশব্যাপী সেচ ব্যবস্থায় ঘাটতি ও জলাবদ্ধতা বেড়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার এবং জনকল্যাণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। খাল খনন কার্যক্রম টেকসই করা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ গড়ে তুলতে বোদা উপজেলা বাসীর সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, অতীতের নানা কারণে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।
সেই ধারণা বদলাতে সরকার পরিকল্পিতভাবে খাল, নদী ও জলাশয় খননের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে টেন্ডার প্রক্রিয়া ও খননকাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নদী ও খাল খননের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল বা মে মাসের মধ্যেই অধিকাংশ খনন কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্ষাকালে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া নতুন করে খননকাজ বা নদীতে ব্লক ফেলার মতো কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পরিকল্পনা শুধু বাস্তবায়নই নয়, ভবিষ্যতেও যাতে ধারাবাহিকতায় এগিয়ে নেওয়া যায় সে লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পাথরাজ খাল খননে কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। বর্তমানে অনেক খাল ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খননের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পাথরাজ নদী পুনঃখননের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাথরাজ নদী পুনঃখনন করে পানি ভরাট রাখতে পারলে প্রায় ৫০ হাজার বিঘা জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ সুফল ভোগ করবে। এই সব নদী খাল জলাশয় খনন করে দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বলেও তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান নদী খাল খনন করে যে খাদ্য শষ্য উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করতো, তেমনি ভাবে আমরা পুনরায় ভরাট হওয়া, নদী খাল-জলাশয় খনন করে এই বাংলাদেশকে খাদ্য শষ্যের ভান্ডার হিসেবে গড়ে তুলবো, অতিরিক্ত খাদ্য শষ্য বিদেশে রপ্তানী করেন বৈদেশিক মুদ্রা লাভ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে উন্নত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবো।
এ সময় রংপুর উত্তরাঞ্চল পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মুহাম্মদ সরফরাজ বান্দা, বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মন, বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম মালিকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।




