১৯৩৫ সালে ১৫ মার্চ যশোরের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ কারী এই রাজনীতিকের রাজনীতির হাতে খড়ি হয়েছিল সেই ছাত্র জীবন থেকেই।
তাঁর পিতা মরহুম কাউছার আহমদ সিদ্দিকী ছিলেন যশোরের ডিস্ট্রিক্ট নাজির। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় যশোর জেলা স্কুল থেকে। এরপর যশোর এম এম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৫৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাশ করেন।
তিনি ১৯৫৮ সালে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন বিপুল ভোটের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্থানীয় নির্বাচনে ১৯৭৩ সালে তিনি যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। যুদ্ধবিধ্বস্ত যশোর শহরকে কিভাবে একটি আধুনিক শহরে রূপ দেওয়া যায় তাঁর পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন এই আফসার আহম্মদ সিদ্দিকী।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্থানীয় নির্বাচনে পৌরসভার দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নিলেও রাজনীতি থেকে তিনি নিজেকে কখনো বিচ্ছিন্ন করেননি। ছাত্র রাজনীতি থেকে অব্যাহতি নিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে যোগদান করেন মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল পার্টিতে।
তিনি যশোর-৫ (যশোর, মনিরামপুর) এ ৯৬ গ্রাম হিন্দু এলাকার আসন থেকে দুই দুইবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাকে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা দিয়ে যশোর জেলার উন্নয়ন সমন্বয়কারী ডিডিসি নিযুক্ত করেন।
তিনি একজন ভাষা সৈনিক ও ছিলেন এবং ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হয়ে দুই বছর কারা বরণ করেন। ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮২ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ৮২ এর সামরিক স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এরশাদের সামরিক স্বৈরশাসক বিরোধী আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি এবং বিভিন্ন সময়ে পত্র-পত্রিকায় বিবৃতি প্রদানে তিনি ছিলেন একমাত্র নেতা যার নিকট থেকে সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে সক্ষম হতো।
তিনি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের দীর্ঘ নয় বছর কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্দোলনরত সাত, আট ও ৫ দলীয় জোটের লিয়াজো কমিটির সদস্য হিসেবে অপরিসীম ভূমিকা পালন করেন। তিনি মেহনতী মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। ন্যায়পরায়ন, সৎ দক্ষ এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অতি আস্থাভাজন ব্যক্তি ছিলেন। দলের প্রচার প্রসারে তার লেখা প্রেস বিজ্ঞপ্তি লিফলেট তৎকালীন আন্দোলনে সংগ্রামে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
তার বিরুদ্ধে অনেকেই ষড়যন্ত্র করতো কিন্তু তিনি কোনদিন প্রতিবাদ করেন নাই। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন সহ মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মরহুম আফসার আলী সিদ্দিকী ২০০১ সালে ১২ই অক্টোবর ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। স্বৈরশাসক এরশাদের পুলিশবাহিনী জি.পি.ও সম্মানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জনসভায় পুলিশ বাহিনী দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে লাঠিপেটা করে লাঠির আঘাত পিঠে লেগে পিঠের বোনমেরু মাংস বেড়ে ফুলে যায় এবং ব্যথা হয় দুই বছর চিকিৎসাধীন থাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান।



