ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৮ টায় সুবহানাকা ফিলিং পেট্রোল পাম্পে।
জানা যায়, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল দেওয়া হবে না এই মর্মে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল ইসলাম সকালে সুবহানাকা ফিলিং স্টেশনে হাজির হন। পেট্রোল পাম্পে ছিল দীর্ঘ আধা কিলোমিটার মোটরসাইকেলের লাইন। কিন্তু ফুয়েল কার্ড চেক করার মুহুর্তেই আধা কিলোমিটার মোটরসাইকেলের লাইন উধাও হয়ে যায়।
নিজের মোটরসাইকেলে তেল ৬৫ বছরের মিজানুর রহমান মাড়েয়া এলাকা থেকে ফুয়েল কার্ডে নিতে আসা রহতম আলী জানান, পাম্পে তেল নেওয়াটা যুদ্ধের চেয়ে কম কিছু নয়।
দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও লাইসেন্সবিহীন গাড়িগুলো নিয়মের তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক আগেই তেল নিয়ে চলে যেতন। বেশ কিছুদিন আগে এরকম পরিস্থিতিতে তেল না নিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে। আজ প্রশাসনের লোকজন ফুয়েল কার্ড চেক করার ফলে ভীড় ছাড়াই তেল নিতে পেরে নিজের সন্তুষ্টির কথাও জানান তিনি।
অপর দিকে বোদা সাবাব ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আশা কলেজ শিক্ষক আহসান হাবিব জানান, ফুয়েল কার্ড দিয়ে তেল নিতে পেরে আমি অনেক খুশি, তিনি উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যেককে সুধাবাদ জানিয়েছেন।অপর একজন বেসরকারী চাকুরিজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বেশ কিছুদিন লাইনে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু তেল নিতে পারিনি। আজ ফুয়েল কার্ড দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে পেরে খুশি, সরকারের এই উদ্যোক বজায় রাখার জন্য আহবান জানিয়েছেন তিনি।
বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম জানান, ফিলিং ষ্টেশন গুলোতে প্রশাসন তদারিক করছেন।
বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম জানান, ফিলিং ষ্টেশন গুলোতে প্রশাসন তদারিক করছেন।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র যেমন ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও ট্যাক্স টোকেন এবং হেলমেট ছাড়া কোনো মোটরসাইকেলে তেল দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র মোটরসাইকেলের জন্য সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলার সব ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।
আবেদনকারীদের ফুয়েল কার্ড সংগ্রহের জন্য উপজেলা প্রশাসন বা জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট কিংবা জেলা প্রশাসন পঞ্চগড় ফেসবুক পেজ থেকে ফরম ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা পঞ্চগড় সদর পৌরসভার ক্ষেত্রে বিআরটিএ ইন্সপেক্টরের স্বাক্ষর নিতে হবে। এই কার্ড ছাড়া কোনো ফিলিং স্টেশন বা ডিলার পয়েন্ট থেকে তেল দেওয়া হবে না।
এছাড়া প্লাস্টিক বোতল, ড্রাম বা অন্য কোনো কন্টেইনারে তেল সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফিলিং স্টেশন ও অনুমোদিত ডিলার পয়েন্ট ছাড়া খোলা বাজারে জ্বালানি তেল ক্রয়-বিক্রয়ও বন্ধ থাকবে।
কেউ যদি অবৈধ ভাবে মজুদ রাখেন তাদের আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




