জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগ জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। সেই টাকা কিছু দেশে ফেরত পাঠিয়ে তারা মাঝে মাঝে সন্ত্রাসী কায়দায় টোকাই দিয়ে মিছিল দেওয়াচ্ছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময়ে ভাড়া করা লোক দিয়ে প্রোগ্রাম সাজিয়েছে। যদি আওয়ামীলীগের এত লোক থাকত, তাহলে জুলাই-আগস্টে যখন ছাত্র–জনতা রাজপথে নেমেছিল, তখন তারা কোথায় ছিল? এখন বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়ে টোকাই ভাড়া করে ভোরবেলা দু-একটা দৌড়ানী দিয়ে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়ে ফাঁপর নিচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ বোঝে কোনটা আসল রাজনৈতিক কর্মসূচি আর কোনটা সাজানো। এই অভ্যুত্থানে যারা গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক বাস্তবতা এখানেই শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অধ্যায় ক্লোজড।
সারজিস আলম আরও বলেছেন, শাপলা প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেব। যদি প্রতীক না দেওয়া হয়, তবে আমাদের সমাধান হবে রাজপথে।
তিনি অভিযোগ করেন, বৈধ প্রক্রিয়া মেনেই এনসিপি প্রতীক চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখনো কোনো আইনগত বা যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা দিতে পারেনি, কেন এনসিপিকে প্রতীক দেওয়া হবে না। সারজিসের দাবি, ইসি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
এ সময় এনসিপির এই নেতা জানান, গণ অধিকার পরিষদ, এবি পার্টি ও সমমনা আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে এনসিপির আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন,আমরা আলোচনায় আছি, কিন্তু আমাদের প্রধান লক্ষ্য আগামী নির্বাচনে শাপলা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ।
সংবাদিকের এক প্রশ্নে সারজিস আলম আরও বলেন, রাজনৈতিক হয়রানির অংশ হিসেবে দেশে মামলাবাজি চলছে। নিরপরাধদের হয়রানি বন্ধ না হলে এনসিপি প্রতিবাদে নামবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে যাঁরা অংশগ্রহণ করে সুবিধা ভোগ করেছেন, আওয়ামীলীগ সরকারকে বৈধতা দিয়েছেন, বা ফ্যাসিস্ট কাঠামোতে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার নেই। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে বলতে চাই, তাদের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।




