সৈয়দা রাশিদা বারী-¤
গোলাপি বাস, গোলাপি বাস, উদ্ভটরা দেখে করে ব্যঙ্গ নাচ। ভালোরা দেখে দেয় আশ্বাস, রাখে বিশ্বাস, বলে নারীরাও দেশ গড়ার কাজের অর্ধেক অংশ। প্রজন্ম প্রজনন সৃষ্টিতেও অর্ধেক নিঃসন্দেহে। উদ্ভট উচ্ছশৃংখলরা বাটপারিতে এক নাম্বার, শয়তানিতে দুই নাম্বার, নারীদের ঠকানোর বেলায় সর্বোচ্চ নাম্বার। কাজে কর্মে ঠনঠনা ঠন পারে না কিছুই নো পাশ, উস্কানিতে … প্লাস। হিংসায় বিতৃষ্ণায় তাই করে লুঙ্গি নাচ।
জ্বলে পুড়ে মরে ভাই। নারীর উন্নয়নে করে হায় হায়।
উচ্ছশৃংখল উদ্ভট আচরণে ঘরেও ডিগবাজি খায়!
বাইরেও ডিগবাজি খায়! নেশাখোর বলে কার!
ভিতরে এবং বাহিরে কোথাও তাদের সুদৃষ্টি নাই। প্রকাশ্যে এবং অপ্রকাশ্যে সবই খারাপ, মিথ্যে প্রলাপ।
এরাই দূষণ এরাই ভীষণ! আবার কিন্তু এরাই পুরুষ!
অবশ্যই সব পুরুষ নয়, আংশিক স¦ল্প কিছু পুরুষ এমন। অথচ দুনিয়া নাড়িয়ে দেওয়ার ওস্তাদ। আর এতে দোষ হয় সব পুরুষের। এক নারীর অপমান অপদস্থ লজ্জাতেও তো সব নারীরই লজ্জা। ওইভাবে দোষ হয় সব পুরুষের, ওরা আসলেই সত্যিই যেন কেমন !
নারীর খেপাই, নারীর রাগাই, নারীর শাসায় এবং বিপদের সংকেত দাঁড় করায়! ভয় দেখায়! হয়তোবা ওই আপদরাই দেশের আপদ। নারীর আপদ শিশুর আপদ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধার ক্ষেত্রেও আপদ! সংসার সমাজ দেশের মহামারী বিপদ! পারে কেবল মাতাল হয়ে মাতলামি করতে !!
একবারও বুঝতে চাই না, মানতে চাই না, জানতে চায় না, নারীরাও দেশ গড়ার কাজের পুরুষের সমান! তাই পাবে পুরুষের সমানে সমান অর্থাৎ অর্ধেক অংশ। এই দেশ বিনির্মাণের ভালো রাখার এবং ভালো করার নারীরাও সমানে সমান অংশীদার।
তাই শুধু গোলাপি বাস কেন? গোলাপি বাসই শুধু নয়, সব ক্ষেত্রেই, দেশের সকল সেক্টরের, সম্পত্তির, রাস্তাঘাট কলকারখানায় নারীদেরও অধিকার সমান। বললাম তো সমান মানেই অর্ধেক অংশ।
নারীরাও দেশ গড়ার কাজের অর্ধেক অংশ মানতে হবে। সাক্ষী চাইলে দিনেশকে ডাকো, নরেন কে ডাকো, বাঘা যতীনের বোন বিনোদ বালা দেবীর, বাঘা যতীনের থেকে কি দেশের মাটির জন্য কম অবদান ছিল? যুগের আবর্তে যুগ গেছে। রায় বাহাদুর, রাজা রামমোহন রায়, সিরাজউদ্দৌলা তিতুমীর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, এ কে ফজলুল হক কিংবা বিভূতিভূষণ শরৎচন্দ্র, যোগগনেন্দ্রনাথ, মীর মোশাররব কবি নজরুল আরো ইত্যাদি প্রভৃতি জন হতে জেনে দেখা যায়, নারীর শক্তি কতখানি ছিল তাদের পাশে। দেশপ্রেম ভালোবাসা তাদের থেকে কম ছিল কিনা?
অতএব নারীরাও এই দেশের সমান অংশীদার। নজরুল তো সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থে নারী কবিতায় লিখেই দিয়েছেন, এই বিশ্বের যা কিছু মহান মহীয়ান অর্ধের তার করিয়াছে নারী অর্ধেক করেছে নর। যে কারণে উপহাসের এবং তাচ্ছিল্য করার কিছু নাই। সবকিছুতে নারীদের অবদান সমান রয়েছে তাই নারীরা তাদের উপযুক্ত প্রাপ্তি দেশ গড়ার ব্যাপারে পুরুষের সমান অংশ বুঝে পেয়ে ধন্য হতে চায়। দেশকেও ধন্য করতে চায়।
পুরুষদেরও উচিত নারীদের হেলা ফেলা না করে সমান অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া। আমি কিন্তু লিঙ্গান্তরের কিছু বলি নাই। অর্ধেক বুঝিয়ে দেওয়া এবং বুঝে পাওয়া, মানে এখানে অশ্লীলতা এবং লিঙ্গান্তর বলে কোন প্রশ্ন নাই মানুষ এবং মনুষ্যত্বের প্রশ্নে।
গোলাপি বাস, গোলাপি বাস উদ্ভটদের নাড়িয়ে দাও। বৈষম্য সরিয়ে দাও। পুরুষ নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করে, দেশ জুড়ে সুখ, শান্তি আর সমৃদ্ধিতে ভরিয়ে দাও।
[লেখক পরিচিত : সাহিত্যিক ও সাংবাদিক]




