আরিফুল ইসলাম জিমন,দিনাজপুর◊◊
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার আলোচিত, কথিত মোজাম বিনোদন পার্কের অনৈতিক কর্মকান্ড যেন বন্ধই হচ্ছে না। কিছুদিন পরপরই এখানে ঘটছে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকান্ড। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এখানে বহুবার অভিযান পরিচলানা করে নারী-খদ্দের সহ পার্ক মালিক মোজামকে ও তার জামাতাকে গ্রেফতার করেছে, এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের সাজাও দিয়েছিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। কিন্তু পার্ক মালিক মোজাম বারংবার জামিনে বেরিয়ে এসে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে আসছে।
গত ১০ আগস্ট (বুধবার) উপজেলার ১নং বুলাকীপুর ইউপির কালুপাড়া এলাকায় অবস্থিত কথিত এই বিনোদন পার্কের একটি ঘর থেকে সবুজ নামের এক নিরাপত্তা প্রহরীর ছুরকিাঘাত করা রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এছাড়াও পাশের ঘর থেকে অসামাজকি কাজে ব্যাবহারিত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পিবিআই, সিআইডি ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে ওই দিনই নিহতের বোনের করা মামলায় সন্ধা থেকে থানা পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে বিনোদন পার্কের মালিক মোজাম ও তার জামাতা রাজু মিয়া, এবং পার্কের ম্যানেজার শাহীনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় ঘোড়াঘাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল ইসলাম বলেছিলেন অপর এক আসামীকে গ্রেফতার এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় পার্ক মালিক মোজাম এক দেড় মাস পর জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে এসে একই কর্মকান্ড শুরু করে।
হত্যাকান্ডের এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) ঘোড়াঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান এর নেতৃত্বে কথিত ওই পার্কে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩ খদ্দেরসহ ৪ নারীকে আটক করে পুলিশ। পরে আটককৃতদের মধ্যে ৫ জনকে ২’শত টাকা করে অর্থ জরিমানা করা হয় এবং এদের মধ্যে ২ জনের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় তাদেরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পার্ক মালিক মোজাম বলেন- আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি, দেহ ব্যাবসা হালাল। আমি হাইকোর্টের আইন দেখেছি, কোরআন দেখেছি, হাদিস দেখেছি এর চেয়ে ভালো ব্যাবসা নেই। অপরদিকে পার্ক মালিক মোজামের এরকম বক্তব্যে উপজেলাবাসী ক্ষীপ্ত হয়ে বলেন এই নব্য ফেরাউনের অতিসত্তর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির জানান, খবর পেয়ে আমরা কথিত পার্কে অভিযান পরিচালনা করে অসামাজিক কাজের জন্য তাদেরকে গ্রেফতার করি। বাগানটি অতিসত্তর বন্ধ করার জন্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক মহোদয়দের সাথে কথা হয়েছে। আমরা আশাবাদী খুব তাড়াতাড়ি মোজামের এই কথিত বিনোদন পার্কটি বন্ধ করে দেয়া হবে।




