শেরপুর ঝিনাইগাতীতে হত্যা মামলার আসামিকে জামিনে এনে দেওয়ার কথা বলে মমিন মিয়া (৩৫) নামে এক কথিত আইনজীবীর সহকারীর বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী একই গ্রামের মরহুম সেকান্দর আলীর ছেলে রজব আলী এ অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত মমিন মিয়া উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে।
এ ঘটনায় রজব আলী মমিন মিয়াসহ তাঁর পরিবারের আরও দুজনকে আসামি করে ঝিনাইগাতী আমলি আদালতে (সিআর) মামলা করেছেন। আদালতে দায়ের করা মামলাটির নম্বর ২৬৯/২০২৬।
মামলার এজাহার ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রজব আলীর ছেলে মো. সুজা মিয়া ওরফে আব্দুল হামিদ ঝিনাইগাতী থানার জিআর মামলা নং-১৮৮/২০২৩ এবং দায়রা মামলা নং-২২৯/২০২৪-এর একটি হত্যা মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এ অবস্থায় কথিত আইনজীবীর সহকারী মমিন মিয়া তাঁর ছেলেকে জামিনে মুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ রজব আলীর কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেন।
রজব আলীর অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর ছেলেকে জামিনে মুক্ত করে দেওয়া হয়নি। এমনকি টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে নিরুপায় হয়ে গত ১৮ আগস্ট তিনি আদালতে মামলা করেন।
আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মমিন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম নুর মোহাম্মদ বলেন, “বিষয়টি আমার মনে পড়ছে না। দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মমিন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় দালালচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, ভারতে পাচার করা ব্যক্তিদের কেউ সমস্যায় পড়লে বা আটক হলে এবং সীমান্তে কোনো চোরাকারবারি আটক হলে তিনি আইনজীবীদের মাধ্যমে তাদের ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করেন। এ কারণে স্থানীয়দের কাছে তিনি আইনজীবীর সহকারী হিসেবে পরিচিত।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মমিন মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো সত্যতা যাচাইয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




