গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরের একমাত্র বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মাণাধীন মিনি শিশু পার্ক ও পুকুরের শোভা বর্ধনের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বিনোদনপ্রেমী মানুষ।
তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ইতোমধ্যে নষ্ট হতে শুরু করেছে পার্ক ও পুকুরপাড়ে স্থাপিত বিভিন্ন অবকাঠামো ও উপকরণ। এক সময়ের দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য এখন যেন পরিণত হয়েছে অবহেলা ও অযত্নের প্রতীকে।
উপজেলা পরিষদের পুকুরের উত্তর পাড়ে সিমেন্ট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ‘আই লাভ সুন্দরগঞ্জ’ প্রতীকচিহ্ন। পাশাপাশি পুকুরপাড় পাকা করণ, বসার স্থান, লাইটিং ব্যবস্থা, শিশুদের খেলাধুলার বিভিন্ন উপকরণ, বসার চেয়ার এবং কবিদের খোদাই করা প্রতিকৃতি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার ও তদারকির অভাবে অধিকাংশ স্থাপনা এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, পৌর শহরের মধ্যে তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই। তাই প্রতিদিন সকাল-বিকাল শিশুদের নিয়ে অনেক পরিবার এখানে ঘুরতে আসে। কিন্তু তদারকির অভাবে পার্কের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিশুদের বসার স্থান, লাইটিং ব্যবস্থা এবং পুকুরপাড়ের ইটের গাঁথুনি ভেঙে গেছে। তারপরও মানুষ এখানে আসে, কারণ বিকল্প কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই। বর্তমানে শিশু-কিশোররা মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে, তাই এমন একটি পার্ক খুব প্রয়োজন।
জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের উত্তর পাশে গোয়ালের ঘাট বধ্যভূমি ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে প্রায় ৯ বছর আগে পুকুরের শোভা বর্ধন ও মিনি শিশু পার্ক নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। তৎকালীন উপজেলা পরিষদ ও সাবেক সংসদ সদস্যদের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিফ মন্ডল জানান, পুকুরের শোভা বর্ধন ও মিনি শিশু পার্ক নির্মাণে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় কাজ আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকল্পটি অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
পার্কে ঘুরতে আসা শিশু তানিয়া আক্তার বলে, এখানে ঘুরতে আমার খুব ভালো লাগে। কিন্তু দোলনা, বসার চেয়ারসহ অনেক খেলাধুলার উপকরণ নষ্ট হয়ে গেছে। পুকুরপাড়ের রাস্তা খুব সুন্দর, তবে উপকরণগুলো দ্রুত মেরামত করা দরকার।
উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. খোকন রানা বলেন, জায়গাটি অত্যন্ত চমৎকার। এর পাশ দিয়ে তিস্তার একটি শাখা নালা প্রবাহিত হয়েছে। বর্ষাকালে এখানে মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সকলের প্রচেষ্টায় এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন পার্ক নির্মাণ করা প্রয়োজন। শিশুদের মানসিক বিকাশে বিনোদন কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিযার রহমান বলেন, পুকুরের শোভা বর্ধন ও মিনি পার্কের বিভিন্ন উপকরণ দ্রুত মেরামত ও তদারকি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঈফাত জাহান তুলি বলেন, উপজেলা শহরে একটি মানসম্মত বিনোদন কেন্দ্র অত্যন্ত প্রয়োজন। পুকুরের শোভা বর্ধন ও মিনি পার্কের নির্মাণ কাজ পুনরায় চালু ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে মিনি পার্কটিকে পূর্ণাঙ্গ বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তর করা হলে শিশু-কিশোরদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর বিনোদনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে।




