দিনমজুর বাবার সংসারে অভাব-অনটনের মাঝেই বড় হয়েছেন পঞ্চগড়ের বোদা পৌরসভাধীন ভাসাইনগর গ্রামের মেয়ে তৃষ্ণা রাণী। পাশে ছিলেন বোদা উপজেলা ফুটবল একাডেমির ক্লাব থেকে শুরু হয় তার ফুটবল খেলার প্র্যাকটিস। তৃষ্ণা রাণী কোন কোন দিন খালি পেটে থেকেও ফুটবল খেলার প্র্যাকটিস করেছেন।
আজ সেই তৃষ্ণা রাণীই বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ভরসা। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটান ও লাওসের বিপক্ষে গোল করে হয়েছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। গোলের পর গোল করে তিনি এখন ক্রীড়ামোদীদের চোঁখে সত্যিকারের ‘গোলমেশিন’।
সবাই পেশাদার খেলোয়াড় হবেন কিংবা শীর্ষ পর্যায়ে খেলবেন এমন কোন কথা নেই। কিন্তু, নিজের প্রিয় ফুটবল খেলার চর্চা চালিয়ে যেতে দোষ কোথায়। লাজশরম, বয়স, পেশা, শ্রেণী, জাতি, ধর্ম কোন কিছুই যেখানে বাধা হতে পারবে না। তৃষ্ণা রাণী বোদা উপজেলার ভাসাইনগর গ্রামে অভাব-অনটনের সংসার, অন্যের জমিতে ছোট্ট একটি ঘর। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতা কখনও আটকে রাখতে পারেনি তাঁকে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল ফুটবল মাঠে ছুটে চলা, গোল করা এবং দেশকে জয় এনে দেওয়া।
তৃষ্ণার শুরুটা ছিল কঠিন। খেলার সামগ্রী কেনার মতো সামর্থ্যও ছিল না, অনেক সময় খালি পেটে অনুশীলন করেছেন তৃষ্ণা। তবুও থেমে যাননি। কারণ তাঁর পাশে ছিলেন বোদা উপজেলা ফুটবল একাডেমির পরিচালক মোফাজ্জল হোসেন। যিনি এই মেয়েকে নিজের স্বপ্নের মতো লালন করেছেন। আজ সেই তৃষ্ণা রাণী বাংলাদেশের নারী ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নাম। তৃষ্ণা সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের বিপক্ষে জোড়া গোল ও লাওসের বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে তিনি আলোচনায় এসেছেন।
তৃষ্ণার শুরুটা ছিল কঠিন। খেলার সামগ্রী কেনার মতো সামর্থ্যও ছিল না, অনেক সময় খালি পেটে অনুশীলন করেছেন তৃষ্ণা। তবুও থেমে যাননি। কারণ তাঁর পাশে ছিলেন বোদা উপজেলা ফুটবল একাডেমির পরিচালক মোফাজ্জল হোসেন। যিনি এই মেয়েকে নিজের স্বপ্নের মতো লালন করেছেন। আজ সেই তৃষ্ণা রাণী বাংলাদেশের নারী ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নাম। তৃষ্ণা সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের বিপক্ষে জোড়া গোল ও লাওসের বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে তিনি আলোচনায় এসেছেন।
গোলের পর গোল করে তৃষ্ণা হয়ে উঠেছেন দেশের ক্রীড়ামোদীদের চোঁখে ‘গোলমেশিন’। ২০২২ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্ণামেন্টে প্রথম বাংলাদেশ জাতীয় দলে সুযোগ পান তিনি।
এরপর ২০২৩ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপে রানারআপ হয়েছেন। ঐ প্রতিযোগিতায় ভুটানের বিপক্ষে করেন ২টি গোল। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্ণামেন্টে তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে এক গোল। ২০২৪ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপেও ভুটানের বিপক্ষে এক গোল করেন তৃষ্ণা।
২০২৪ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের বিপক্ষে শেষ মিনিটে গোল করে দলকে ফাইনালে তোলার পর তৃষ্ণা চ্যাম্পিয়ন তকমাও পেয়েছেন। ঐ টুর্ণামেন্টে ভুটানের বিপক্ষে দুটি ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও একটি গোল করেন পঞ্চগড়ের এই মেয়ে তৃষ্ণা রাণী। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ কোয়ালিফায়ারে পূর্ব তিমুরের বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও রয়েছে একটি গোল।
তৃষ্ণার বাবা উমেশ বর্মনের কণ্ঠে গর্বের সঙ্গে দুঃখও মিশে আছে, আমি ইটভাটায় কাজ করি। খুব কষ্টে সংসার চালাই। অন্যের জমিতে থাকি আমরা। আমার মেয়ে দেশের হয়ে খেলছে বিদেশে। সরকারের কাছে আমার দাবি- আমাদের একটু জমি দিয়ে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিলে মেয়েকে নিয়ে থাকতে পারব।
তৃষ্ণার মা সুনিলা রাণীও একই আর্জি জানিয়েছেন, দিনমজুরের কাজ করে সংসার চলে। আমাদের ঘরটি আগে বসবাসের উপযোগী ছিল না। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক সেটি সংস্কার করে দেন। তবে জমিটি আমাদের নিজস্ব নয়। এ অবস্থায় সরকারের প্রতি অনুরোধ- যেন আমাদের জন্য একটি জমি কিনে সেখানে বসবাসযোগ্য ঘর করে দেওয়া হয় বলে এমনটি গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রকাশ করেন সকালের কাগজকে।
তৃষ্ণার মা সুনিলা রাণীও একই আর্জি জানিয়েছেন, দিনমজুরের কাজ করে সংসার চলে। আমাদের ঘরটি আগে বসবাসের উপযোগী ছিল না। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক সেটি সংস্কার করে দেন। তবে জমিটি আমাদের নিজস্ব নয়। এ অবস্থায় সরকারের প্রতি অনুরোধ- যেন আমাদের জন্য একটি জমি কিনে সেখানে বসবাসযোগ্য ঘর করে দেওয়া হয় বলে এমনটি গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রকাশ করেন সকালের কাগজকে।
বোদা উপজেলা ফুটবল একাডেমির পরিচালক মোফাজ্জল হোসেন জানান, আমরা ২০১৮ সাল থেকে মেয়েদের নিয়ে কাজ শুরু করি। তখন অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে। অনেক অভিভাবক মেয়েদের খেলতে দিতে চাইতেন না, বিয়ের অজুহাত দিতেন। তবুও আমরা এগিয়ে গেছি। এখন আমাদের একাডেমি থেকে ৬ জন খেলোয়াড় বাংলাদেশ জাতীয় দলের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলছে। এর মধ্যে তৃষ্ণা রাণী অন্যতম। তৃষ্ণা রাণী অভাব- অনটনেও এতদূর এসেছে। হ্যাটট্রিক করে দেশকে জয় এনে দিয়েছে সে। এটি আমাদের সবার জন্য গর্বের।




