দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাস করতে পারেনি। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার ১৩ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পঞ্চগড়ের ৩ জন, ঠাকুরগাঁওয়ের ৬ জন ও দিনাজপুরে ৪ জন। এমন প্রতিষ্ঠানও রয়েছে যেখান থেকে মাত্র ১ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হয়েছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও জেলার যে ৬ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাস করেনি সেগুলো হলো- সদরের সালন্দর মহিলা কলেজের ৮ জন, আমানতুল্লাহ ইসলামী একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫ জন, ঠাকুরগাঁও নিউ মডেল কলেজের ৪ জন, রানীশংকৈল উপজেলার গোগড় কলেজের ৫ জন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রত্নাই বগুলাবাড়ী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২ জন এবং পীরগঞ্জ উপজেলার একতিয়ারপুর শহীদ সালাহউদ্দীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১ জন।
দিনাজপুর যে ৪ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেনি সেগুলো হলো- বীরগঞ্জ উপজেলার কবিরাজ হাট কলেজের ১০ জন, বিরামপুর উপজেলার বেপারীতোলা আদর্শ কলেজের ৩ জন, ফুলবাড়ীর উত্তর লক্ষ্মীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২ জন, হাকিমপুর উপজেলার বোয়ালদার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২ জন।
এবার পঞ্চগড় জেলার ৩ টি কলেজের কেউ পাস করতে পারেননি।
এবার পঞ্চগড় জেলার ৩ টি কলেজের কেউ পাস করতে পারেননি।
কলেজগুলো হলো:-
বোদা উপজেলার বোদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বোদা উপজেলার মাড়েয়া মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার আলহাজ্ব তমিজ উদ্দীন কলেজ। প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।
জানা যায়, বোদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন, এর মধ্যে ৪ জন অনুপস্থিত ছিলেন। মাড়েয়া মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ জন। আর আলহাজ্ব তমিজ উদ্দীন কলেজ থেকে অংশ নেন ৪ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে ২ জন অনুপস্থিত ছিলেন।
মাড়েয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সপেন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, আমাদের কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত হয়নি। কয়েক বছর ধরে নেই কোনো শিক্ষক। এজন্য একজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করতে পারেনি।
জানা যায়, বোদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন, এর মধ্যে ৪ জন অনুপস্থিত ছিলেন। মাড়েয়া মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ জন। আর আলহাজ্ব তমিজ উদ্দীন কলেজ থেকে অংশ নেন ৪ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে ২ জন অনুপস্থিত ছিলেন।
মাড়েয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সপেন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, আমাদের কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত হয়নি। কয়েক বছর ধরে নেই কোনো শিক্ষক। এজন্য একজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করতে পারেনি।
বোদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নার্গিস পারভিন মৌসুমী বলেন, ভর্তি হওয়ার পরে সবার বিয়ে হয়ে গেছে। এজন্য কেউ পাস করতে পারেনি।

আলহাজ্ব তমিজ উদ্দীন কলেজের অধ্যক্ষ হাসান আলী বলেন, আমাদের কলেজের ৪ জনের মধ্যে ২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ২ জনেরই পাস করার কথা ছিল। আমরা বোর্ড চ্যালেঞ্জ করব।
ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খায়রুল আনাম মো. আফতাবুর রহমান বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হবে। এই ফলাফলের কারণ খুঁজে বের করে এখান থেকে কিভাবে উত্তরণ করা যায় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ শিক্ষা বোর্ডেরই ১৩ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস না করার কারণ জানতে চাইলে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাসুদুল হক বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাস করতে পারেনি সেগুলোর শিক্ষার্থী সংখ্যা খুবই কম। নামমাত্র শিক্ষার্থী থাকা এসব প্রতিষ্ঠান না থাকাই ভালো। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছাকাছি অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করে দেওয়া উচিত। কারণ শ্রেণিকক্ষে যদি অধিক শিক্ষার্থী না থাকে তাহলে পাঠদান হয় না, শিক্ষকরাও আগ্রহ পান না। বিষয়টি নিয়ে বোর্ডকে ভাবতে হবে।
ওসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কম থাকাকে ফেলের কারণ হিসেবে দেখছেন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম।
ওসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কম থাকাকে ফেলের কারণ হিসেবে দেখছেন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, যে প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউ পাস করতে পারেনি তাদের শিক্ষার্থী সংখ্যা খুবই কম। এরপরও কেন তারা পাস করতে পারেনি সে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাদের এই খারাপ অবস্থা দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পুরো ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলেছে। আমরা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলবো।




