◊◊আব্দুল হালিম নিশাণ◊◊
চট্টগ্রামের রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে দীর্ঘ ১১ বছর পর এক জনসভা মঞ্চে ভাষণ দেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কণ্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল (৪ ডিসেম্বর) রবিবার দুপুরে রাজনৈতিক জনসভা মঞ্চস্থ সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিলে ভরে গেছে রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠ। চট্টগ্রাম শহরজুড়েই মিছিলে মিছিলে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। ১১ বছর পর চট্টগ্রামের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা নিজেদের শক্তির জানান দিতে নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন আর বাদ্য বাজিয়ে কর্মীর বহর নিয়ে হাজির হচ্ছেন সভাস্থলে।
জনসভায় যোগ দিতে নগরের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা থেকে এসেছেন নেতাকর্মীরা। প্রতিটি উপজেলার জন্য রাখা রয়েছে আলাদা রঙের ড্রেস কোড।
আওয়ামী লীগ, যুবলীগের কমিটি আর সব কিছু ছাপিয়ে এক বছর পর জাতীয় নির্বাচন- এমন নানা সমীকরণে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতারা এখন সক্রিয়। এমন সময় চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ এনেছে। পদ, পদবি এবং আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে এই সময়টাকেই বেছে নিয়েছেন নেতারা। গত এক মাস ধরেই নেতাদের বিশাল বিশাল ছবিতে চট্টগ্রামের সর্বত্র ব্যানার, পোস্টার আর ডিজিটাল ব্যানার টাঙানো হয়েছে। জনপ্রিয়তার শক্তি জানান দিতে বেছে নেওয়া হয়েছে আজকের জনসভার দিন।
সকাল থেকে বিভিন্ন রংবেরঙের টি-শার্ট পরে, বাদ্য বাজিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে নেতাকর্মীরা হাজির হচ্ছেন পলোগ্রাউন্ড মাঠে। প্রধানমন্ত্রীর নজরে মাঠের সম্মুখভাগ দখল করতে কর্মীদের নিয়ে আসার প্রতিযোগিতা চোঁখে পড়ার মতো। কর্মীদের সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয় নেতাদের পক্ষ থেকে। রবিবার ভোরে দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে জনসভাস্থলে হাজির হয়েছেন সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গতকাল রাত ১২টায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে দুটি জাহাজ, চারটি বলগেট ও ৩৫টি ট্রলারে করে প্রায় ১৩ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে আজ ভোরে চট্টগ্রামে এসেছেন তিনি। আর সকাল ১০টায় মিছিলসহকারে নেতাকর্মীদের নিয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠের সামনের অংশ দখলে নিয়েছেন।
এদিকে জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন চলাচলে দেওয়া হয়েছে বিধি-নিষেধ। এম এ আজিজ স্টেডিয়াম থেকে রেডিসন গোলচত্বর, ইস্পাহানী মোড়, টাইগারপাস হয়ে পলোগ্রাউন্ড সমাবেশস্থল পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীদের সমাবেশস্থলে যোগ দেওয়ার সুবিধার্থে এ বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ বলছে, সমাবেশ যাতে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয় সে জন্য সমাবেশস্থলসহ আশপাশের এলাকায় দায়িত্বরত রয়েছেন পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া সাদা পোশাকের পুলিশও নিয়োজিত রয়েছে। ছিলেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য সদস্যরাও।
এ জনসভায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রখ্যাত রাজনীতিবীদ সহ সকল শ্রেণি পেশাজীবী মানুষের ঢল দেখা গেছে। এ জনসভাকে কেন্দ্র করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাছে থেকে দেখার উদ্দেশ্যে অনেকেই আবার ভির জমিয়েছেন। চট্টগ্রামবাসী সাধারণ জনগণের জন্য এটা একটা আত্মতৃপ্তির অনূভুতিও চোঁখে পড়ার মতো।




