পঞ্চগড় ২’ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য এমপি প্রার্থী ও বোদা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. সফিউল আলম (সফিউল্লাহ সুফি) বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হতে পারলে কোনো ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেব না। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে গণসংযোগ ও পথ সভায় এ ঘোষণা দেন।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে সুফি বলেন, আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহ তায়ালার কৃপায় আমি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জয়যুক্ত হতে পারি, কখনো কোনোভাবে সরকারি প্রদত্ত ভাতা কিংবা অ্যালাউন্স কিংবা সুযোগ সুবিধা যা-ই সরকার আমাকে দেবে সবটুকু অর্থ আমি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ-মন্দির ও এলাকার অসহায়, দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে উন্মুক্ত করে দেবো। আমি তাঁর এক পয়সাও নিজের কল্যাণে, পরিবারের কল্যাণে, আত্মীয়-স্বজনের কল্যাণে ব্যয় করবো না, আমি কথা দিলাম। বোদা উপজেলা পরিষদে দায়ীত্বে থাকার সময়ে যে সম্মানী ভাতা পুরোটাই দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় করে ছিলাম। জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে পুরোটাই মানুষের কল্যাণে ব্যয় করে দেবো।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের দোয়ায়, আল্লাহ তায়ালার বরকতে আমি যদি নির্বাচিত হই নিজের স্বার্থে প্রশাসন ব্যবহার করব না। সরকারি কাজ ছাড়া কোনো প্রটোকল ব্যবহার করব না।
বোদা ও দেবীগঞ্জ এলাকার মানুষজনদের জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা থাকবে। পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনকে অবৈধ প্রভাব বিস্তার থেকে বিরত রাখবো। এ প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেলে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকব। সরকারি ফান্ড নিয়ে জনগণের কাছে হিসাব দিতে সব সময় বাধ্য থাকব।
প্রতীক বরাদ্দের পর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথ সভায় বক্তব্য রাখেন, আলহাজ্ব মো. সফিউল আলম (সফিউল্লাহ সুফি)। নিয়ম করে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় ধরেই চলছে তাঁর প্রচার-প্রচারণা। সফিউল আলম (সফিউল্লাহ সুফি) পঞ্চগড়-২, বোদা-দেবীগঞ্জ এই দুই উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম ও হাট-বাজার এলাকায় জনসংযোগ ও পথ সভায় বক্তব্য রাখেন। দখলকৃত খাল পুনরুদ্ধার, নারীদের নিরাপদ চলাচল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক ন্যায্যতা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।

বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশে অংশ নেয়া অনেকেই তার এই ঘোষণাকে রাজনীতিতে নৈতিকতা ও মানবসেবার বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সফিউল আলম (সফিউল্লাহ সুফি) এর এই ঘোষণা স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, আলহাজ্ব সফিউল আলম (সফিউল্লাহ সুফি) ২০১৪ সালে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। চেয়ারম্যান কালীন সময়ে সরকারের দেওয়া তাঁর মাসিক সম্মানী ভাতা পুরোটাই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ-মন্দির ও এলাকার দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় করে দেন।




