মহসিন রেজা রিপন,শরীয়তপুর-¤
পদ্মায় জেলেরা অবৈধভাবে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে বাঁধা প্রয়োগ করলে জেলেরা ঐক্যবদ্ব হয়ে স্থানীয় এমপি সাইদ আহমেদ আসলাম, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ৪১ জেলেকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় প্রায় ২ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৩০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর এলাকার পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় প্রত্যেক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, নদীতে অভিযান পরিচালনার সময় জেলেরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, একপর্যায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে প্রায় শতাধিক জেলে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ লাঠিসোঁটা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অভিযানে থাকা কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হয়।
এ সময় শরীয়তপুর-১ পালং- জাজিরা আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেবকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযানে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পালেরচর এলাকার নদীর পাড়ে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা পৌঁছে অভিযান জোরদার করলে হামলাকারী জেলেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।সেখান থেকে ৪১ জেলেকে আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, হামলাকারী জেলেদের একটি অংশ কিছু সময়ের জন্য উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, পরে যৌথ বাহিনী গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে পদ্মা নদীতে অবস্থান করার সময় যে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে, তা আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাঁদের শক্ত হাতে প্রতিহত করবো।
শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব জানান, পালেরচর এলাকায় অভিযানে যাওয়ার পর জেলেরা গ্রেপ্তারের ভয়ে ইটপাটকেল ছুড়েছিল। পরে অভিযান জোরদার করা হলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় আমরা ৪১ জন জেলেকে আটক করি।
শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলামের ওপর জেলেদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের বিষয়ে তিনি জানান, ঘটনাটি সরাসরি আমার ওপর কোন ব্যক্তিগত হামলা ঘটনা নয়, মূলত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে আমার সাথে আরো সরকারি কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনি ছিলো, অভিযান প্রতিহত করতেই তারা তাঁদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে, আশা করি, জেলেরা তাঁদের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হবে এবং মা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকবে।




