বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছে সাধারণ মানুষ। এসব রোগের মধ্যে রয়েছে কলেরা, টাইফয়েড, ডায়রিয়া ইত্যাদি।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরকারিভাবে কলেরা স্যালাইন সহ বেশ কিছু ওষুধ সরবরাহ না থাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। প্রায় চার মাস ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় এতে তৃণমুলে বসবাসকারী অবহেলিত মানুষগুলো স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। এমনটিই আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
জানা গেছে,পলাশবাড়ী উপজেলার একটি প্রশাসনিক থানা এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসাসেবার ওপর গ্রামাঞ্চলের নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষগুলো সুস্থ ও সবলভাবে বেচে থাকার জন্য অনেকটিই নির্ভর করে। কিন্তু সরকারি ওষুধ সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।
রবিবার (৩ আগষ্ট) পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে,ডায়রিয়া এবং কলেরা জনিত রোগের চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের ঔষধ এবং স্যালাইন সরকারিভাবে সরবরাহ না থাকায় বাইরে থেকে কিনে এনে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের।
চিকিৎসা সেবা নিতে আশা বেশ কজন রোগী এবং তাদের অবিভাবকের সাথে কথা বলে জানা যায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ হলে তৃণমুলে সাধারণ মানুষ বিপদে এবং স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে।
ডায়রিয়াজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক রোগীর অভিভাবকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, রোগীকে ভর্তি করানোর পরে স্যালাইন ও ট্যাবলেট না থাকার কারণে কর্তব্যরত ডাক্তার বাইরে থেকে কেনার
পরামর্শ প্রদান করেন। সেজন্য আমরা বাইরে থেকে স্যালাইন ট্যাবলেট কিনে নিয়ে এসে রোগীকে প্রদান করি।
এ বিষয়ে কর্তব্যরত এক নার্সের সাথে কথা বললে তিনি জানায়,প্রায় চার মাস যাবৎ কলেরা স্যালাইন সরকারিভাবে সরবরাহ বন্ধ আছে।
হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ কমে যাওয়া বা না থাকার সমস্যা প্রায়শই শোনা যায়। বিশেষ করে কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে এই সংকট বেশি দেখা যায়, যেখানে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এতে করে রোগীদের চিকিৎসা পেতে সমস্যা হয় এবং অনেক সময় তাদের হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়।
এমন সমস্যার সমাধান পেতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন গাইবান্ধা ও রংপুর বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) হস্তক্ষেপ কামনা করে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন এতে দেশের জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




