আমিরুল ইসলাম কবিরঃ
গাইবান্ধা পলাশবাড়ী উপজেলার প্রায় ৮১ টির বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত,স্লিপ,ও শিশু শ্রেণীর সরঞ্জাম ক্রয় করে নাম মাত্র কাজ করে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ভাগ বাটোয়ারায় অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে ,২০২২ সালে পলাশবাড়ী উপজেলার ২’শ ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ক্ষুদ্র মেরামত করার জন্য ৮১টি বিদ্যালয়ের অনূকুলে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এছাড়াও এসব স্কুলে ৫০ হাজার করে টাকা স্লিপ ও ১০ হাজার করে টাকা শিশু শ্রেণীর সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়। সব মিলিয়ে স্কুল প্রতি মোট ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। মোট বরাদ্দের ৫০ শতাংশ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করে যৎ সামান্য কাজ করেছেন কতিপয় প্রতিষ্ঠান প্রধানগন। এসব কাজের মধ্যে দৃশ্যমান শুধুই একটি শহীদ মিনার,কোনো কোনো স্কুলে আবার তাও নেই।
প্রধান শিক্ষকগনের চাহিদা মোতাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের প্রাক্কলন (ইস্টিমেট) প্রস্তুত করার কাজটি করেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী। তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার।
সহকারী শিক্ষা অফিসার ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের যোগসাজশে সামান্য কাজ করে সমুদয় টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ভ্যাট, আয়কর,ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে সরকারী কোষাগার থেকে এসব টাকা উত্তোলন করে পকেটস্থ করা হচ্ছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, তদারকি কর্মকর্তারা এসব কাজ পরিদর্শন না করেই ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে শতভাগ কাজ বাস্তবায়ন দেখিয়ে ইতোমধ্যেই চুড়ান্ত বিল উত্তোলনের জন্য প্রধান শিক্ষকগনের নিকট ছাড়পত্র প্রদান করেছেন। যা বর্তমানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের টেবিলে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক প্রধান শিক্ষক জানান,উপজেলা সহকারী প্রকৌশলীদের ইস্টিমেট তৈরী করা বাবদ ২ হাজার ৫’শ টাকা দিতে হয়। অডিট বিল ৫’শ টাকা,ক্লাষ্টার খরচসহ সহকারী শিক্ষা অফিসারগনের জন্য ১০ হাজার টাকা করে পিসি নেয়া হচ্ছে।
চলতি মাসে বিদ্যালয় গুলো সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় উপজেলার সুইগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,উত্তর সুলতানপুর বাড়াইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,শিশুদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মোস্তফাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,ডাকের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,খামার নড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,সাকোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,আটঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,জোবেদা খাতুন বড় ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছে শিক্ষার্থী একেবারেই নামমাত্র। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুবই কম। অনেক স্কুল সাড়ে নয়টা ১০ টায় সময় খোলা হয়। আবার অনেক স্কুল বেলা ৩ টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষকরা তাদের ইচ্ছে মত স্কুলে যাতায়াত করেন। যথা সময়ে স্কুল গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হয় না। অনেক স্কুলে এসেম্বিলি করা হয় না ও জাতীয় সঙ্গীত পর্যন্ত গাওয়া হয় না।অভিভাবক সমাবেশ ও মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় কাগজে কলমে। কতিপয় শিক্ষক নেতা স্কুল ফাঁকি দিয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসারের সাথে ক্লাস্টারের দালালী নিয়ে অধিকাংশ সময় শিক্ষা অফিসারের বারেন্দায় ঘুরঘুর করতে দেখা যায়। এসব যেন দেখার কেউ নেই।
১ মাস থেকে দুই বছর পরিদর্শন রেজিষ্টারে স্বাক্ষর নেই উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারগনের। তারা প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা উপজেলা শিক্ষা অফিসে নিয়ে এসে স্বাক্ষর দিয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন দেখান বলেও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। দুই মাস,তিন মাস,এক বছর ও দুই বছরেও একটি বিদ্যালয় পরিদর্শন হয় না।
শুধুমাত্র শিক্ষা অফিসারগন বিদ্যালয় সমুহ যথাযথ মনিটরিং না করার ফলে গোটা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ে শিক্ষার অবস্থা হ-য-ব-র-ল অবস্থা।
বরাদ্দকৃতর টাকার মধ্যে হাতে গোণা কিছু স্কুলে রং করা হয়েছে। কয়েকটি স্কুলে ছোট্র পরিসরে একটি করে শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে।শুধুমাত্র একটি শহীদ মিনার ছাড়া দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে। এছাড়াও স্লিপের টাকা ও শিশু শ্রেণীর টাকার দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি।
প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান,উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারগন কাজের প্রতি আন্তরিক না হওয়া এবং যথাযথ মনিটরিং না করার জন্যই কাজের গুনমান খারাপ হয়েছে।
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান নয়ন বলেন,আগামী শিক্ষা কমিটির মিটিং এ বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। কোথাও কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পলাশবাড়ী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক সহ সচেতন অভিজ্ঞ ও পর্যবেক্ষক মহল।




