গাজীপুর শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পটকা সিনিয়র মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে চরম বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসার সাবেক সুপার ও বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং একটি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় শিক্ষা মহল, শিক্ষক সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এর আগে মহিউদ্দিনকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে। অথচ বহিষ্কৃত অবস্থায় থেকেও তিনি কীভাবে আবার ওই মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে বহাল রয়েছেন, তা নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শ্রীপুর রেঞ্জের অধীন বিট কর্মকর্তা আলাল খান বাদী হয়ে পটকা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বনবিভাগের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মামলা নম্বর: ০৪/২০২৪, ওয়ারেন্টের স্মারক নম্বর: ১২৪৩৮, তারিখ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫।
এদিকে সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংযুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারসহ একাধিক গুরুতর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্ত কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন,
“মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছেন, তদন্তের সময় তাদের ডাকা হলেও তারা উপস্থিত হননি।”
তবে সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে কি না,এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ১৮–১৯টি অভিযোগ রয়েছে। তিনি অনেক আগে থেকেই সভাপতি হিসেবে রয়েছেন।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচালনা পরিষদের গঠনতন্ত্র ও পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করেন কিংবা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে থাকার যোগ্য নন।
অথচ অভিযোগ রয়েছে,বহিষ্কৃত ও বেতন-ভাতা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও মহিউদ্দিন এখনো সভাপতি পদে বহাল রয়েছেন, যা বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ নাসির আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন,
“ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। শিগগিরই পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ না নিলে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।




