তবে, এ বছর যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের নির্দেশনা ও সহযোগিতায় রাখা হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। প্রতি বছর মহালয়া উপলক্ষে করতোয়া নদী পার হয়েই বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী যোগ দেন ঐতিহাসিক বদেশ্বরী মন্দিরের পূজা উৎসবে।এ বছরও চলছে মহালয়া উপলক্ষে বদেশ্বরী মন্দিরে ভক্তদের আনাগোনা।

শনিবার (১০ অক্টােবর) সূর্যোদয়ের পর থেকেই আশপাশের এলাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হতে থাকে করতোয়ার আউলিয়া ঘাট থেকে মন্দির পর্যন্ত পুরো এলাকা।
ভক্তরা জানান, হিন্দু পুরানে উল্ল্যেখিত ৫১ পীঠের অন্যতম এই বদেশ্বরী শক্তিপীঠ ধাম। ভক্তরা তাদের পরলোকগত মা-বাবাসহ পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় মাথা মুণ্ডন করে তর্পনাদি ও গঙ্গাস্নান সেরে সমবেত হন মন্দির প্রাঙ্গণে। সেখানে পূজার্চনা ও মন্দির পরিক্রমায় নামে হাজার হাজার ভক্তদের ঢল।
উৎসব উপলক্ষে থাকে মাতৃপূজা, চন্ডীপাঠ, গীতাপাঠ, ধর্মসভা, মাতৃবন্দনা ও প্রার্থনা সঙ্গীতের আয়োজন। উৎসবে যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। নিরাপত্তা সহ সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ভক্তরা।

এদিকে, মহালয়া উপলক্ষে মন্দির পরিদর্শনে আসেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার।
পূজার্চনা ও মন্দির পরিদর্শন শেষে আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতিতে অনেক জায়গায় মিল থাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক সবসময়ই বন্ধুত্বপূর্ন ছিলো এবং থাকবে।
যেকোন বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে এ সম্পর্ক আরো বেশি সৌহার্দপূর্ণ, আরো বেশি দৃঢ় হবে হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ার দিনে এই বোদেশ্বরী মন্দিরে আসার পথেই করতোয়া নদীর মাড়েয়া আউলিয়া ঘাটে এক মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছিল, এ ঘটনায় ৭২ জন পুণ্যার্থী প্রাণ হারান এবং এদের মধ্যে ১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
এবারের মহালয়া অনুষ্ঠানেও সেই ভয়াবহ স্মৃতি স্মরণ করে আউলিয়া ঘাটে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি পুণ্যার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বোদা উপজেলা প্রশাসন জানান।




