ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে ১৬ মে শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভাসানী মঞ্চের উদ্যোগে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
‘ফারাক্কাবাধ-মরণফাঁদ ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রয়াত মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়ার কন্যা বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনীতিক জনাব রীটা রহমান। তিনি বলেন, ১৬ই মে আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য, গৌরবময় এবং প্রতিরোধ-সংগ্রামের দিন। ১৯৭৬ সালের এই দিনে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথরিয়া সারা বাংলাদেশের লাখো মুক্তিকামী মানুষ ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চে শামিল হয়েছিলেন।
আজকের এই স্মরণীয় দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীকে, যাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে নিজেদের জীবনরেখা আমাদের নদী ও পানির অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হতে হয়। মকিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, দীর্ঘ পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও ফারাক্কা বাঁধের কারণে সৃষ্ট অভিশাপ থেকে আমরা আজও মুক্ত হতে পারিনি। শুষ্ক মৌসুমে আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পদ্মা ও তার শাখা নদীগুলোকে মরুভূমিতে রূপান্তর করা হয়, আর বর্ষা মৌসুমে ফারাক্কার সবকটি গেট একসাথে খুলে দিয়ে আমাদের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি বানের জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এই দ্বিমুখী নীতি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর চরম অন্যায় ছাড়া আর কিছুই নয়।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ভাসানী মঞ্চের আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ ফারাক্কা বাঁধের কারণে আমাদের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকার পরিবেশগত বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে, সুন্দরবনের লবণাক্ততা বাড়ছে, কৃষি ব্যাহত হচ্ছে এবং মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলো আজ একে একে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাসাস এর সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক, জাসাস এর সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদার, বাংলাদেশ উন্নয়ন পার্টির সভাপতি ও ভাসানী মঞ্চের সদস্য সচিব সৈয়দ মোখলেসুর রহমান, স্কপ এর যুগ্ম সমন্বয়ক এ এ এম ফয়েজ হোসেন, গ্রীন পার্টির সভাপতি রাজু আহমেদ খান, নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল হক, বাংলাদেশ জনমত পার্টির আহবায়ক সুলতান উদ্দিন জিসান, বাংলাদেশ পিপলস্ পার্টির চেয়ারম্যান মোঃ সিদ্দিকুর রহমান খান প্রমুখ।




