শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় ঢাকায় বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ সম্মেলন কক্ষ,২২/১ তোপখানা রোড এলাকায় এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাটি বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি কমরেড বদরুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এ. এ. এম. ফয়েজ হোসেন, রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভানেত্রী লাভলী ইয়াসমিন, ইনসিডিন বাংলাদেশের গবেষক অ্যাডভোকেট রফিকুল আলম ও মুশফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভানেত্রী শামীম আরা, সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি আঁখি আক্তার, গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্বাস উদ্দিন,বাংলাদেশ ন্যাশনাল লেবার ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান সরকার, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রেহেনা বেগম, কেন্দ্রীয় নেতা শাহ আলম, ঢাকা মহানগর সভাপতি শাহাবুদ্দিন মাতুব্বর প্রমুখ।

১৯২৩ সালে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার এক জোতদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও কমরেড আবদুস সাত্তার খান শোষিত-নিপীড়িত ভূমিহীন কৃষকদের পক্ষে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। আশির ও নব্বইয়ের দশকে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন ঐতিহাসিক খাসজমি দখল আন্দোলন সংগঠিত করে, যার মাধ্যমে হাজার হাজার ভূমিহীন কৃষক জমির অধিকার পায়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি রফিক বাহিনী গঠন করে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। জেলা পর্যায়ে গঠিত সাত সদস্যবিশিষ্ট সংগ্রাম কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে তিনি নেতৃত্ব দেন মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তিনি কখনো নিজের ভূমিকা নিয়ে অহংকার করেননি; বরং নিঃস্বার্থভাবে আজীবন কৃষক মুক্তির সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।
কমরেড বদরুল আলম বলেন, “কমরেড আবদুস সাত্তার খান কেবল একজন কৃষক নেতা নন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের কৃষক-শ্রমিক আন্দোলনের দিকনির্দেশক ও বিপ্লবী শিক্ষক। তাঁর নেতৃত্ব, সংগঠনশক্তি এবং সমাজতান্ত্রিক চেতনা আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে। আজ যখন কৃষিজমি কর্পোরেট দখল, জলবায়ু বৈষম্য ও বৈশ্বিক পুঁজিবাদী লুণ্ঠনের শিকার, তখন তাঁর আহ্বান ‘চাষির হাতে জমি দাও’ ও ‘খাদ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করো’ আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।”
বক্তারা বলেন, কমরেড আবদুস সাত্তার খানের জীবন ও সংগ্রাম বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি মাঠে-ময়দানে কৃষকদের সংগঠিত করে খাসজমি আন্দোলনকে গণআন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন। আজ তাঁকে স্মরণ করা মানে কৃষক-শ্রমিক ঐক্যের রাজনীতি, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন ও বিপ্লবী পরিবর্তনের সংগ্রামে নতুন অঙ্গীকার করা।
সভা শেষে বক্তারা তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর দেখানো পথে কৃষক মুক্তি ও সমাজতান্ত্রিক পরিবর্তনের লড়াই জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




