বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের কনফারেন্স রুমে “ভূমি, পরিবেশ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ভবিষ্যতের পথে শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত করা হয়।
শনিবার (১৬ মে) ঢাকাস্থ বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-এর যৌথ উদ্যোগে সভাটি আয়োজন করা হয়।
গোলটেবিল বৈঠকটি মূলত ভূমি, পরিবেশ, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রশ্নে একটি মতবিনিময় সভা হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, সভার সভাপতি বদরুল আলম। প্রবন্ধে তিনি বলেন, বর্তমান উন্নয়ন মডেল ভূমি দখল, পরিবেশ ধ্বংস এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার হরণের মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য ও মানবিক সংকটকে গভীর করছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই সমাজ গড়তে হলে ভূমির ন্যায্য বণ্টন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আদিবাসী, দলিত, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন, বদরুল আলম এবং পরিচালনা করেন, জায়েদ ইকবাল খান।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট উদ্ভিদ বিজ্ঞানী এম এ সোবহান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, উবিনিগ-এর পরিচালক জাহাঙ্গির আলম জনি, বিএএসডি-এর নির্বাহী পরিচালক বনিফেস সুব্রত গোমেজ, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির হেড অব প্রোগ্রাম কর্মকর্তা ফিরোজুল ইসলাম, কারিতাস বাংলাদেশের কর্মসূচী কর্মকর্তা সুমন মালাকার ও স্টিফেন ত্রিপুরা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম-এর নেতা উজ্জ্বল আজমীর, মধুপুর থেকে আগত গারো আদিবাসী নেতা ইউজিন নকরেক, পাহাড়ি আদিবাসী নেতা দ্বীপায়ন খিসা, সাংবাদিক মোঃ নান্নু, ইন্সিডিন বাংলাদেশ-এর কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান সাব্বির, মাদারল্যান্ড গারমেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন-এর সভাপতি সালেহা ইসলাম শান্তনা ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, বাংলাদেশ সংযুক্ত বিল্ডিং এন্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশন-এর সভাপতি শহিদুল আলম ফারুক, গনছায়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্র-এর সভাপতি মোতাহার হোসেন, দলিত নেত্রী এবং নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম-এর কেন্দ্রীয় সদস্য রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে বদরুল আলম বলেন, ভূমি, পরিবেশ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রশ্ন আজ কেবল সামাজিক বা পরিবেশগত ইস্যু নয়; এটি ন্যায়বিচার ও মানবমুক্তির প্রশ্ন। তিনি বলেন, দেশে প্রভাবশালী গোষ্ঠী, কর্পোরেট স্বার্থ ও ভূমিদস্যুদের মাধ্যমে কৃষিজমি, খাসজমি, বনভূমি ও নদী দখলের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর ফলে কৃষক, আদিবাসী, দলিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্রমাগত ভূমিহীন ও নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে। তিনি ভূমি সংস্কার, খাসজমির ন্যায্য বণ্টন, পরিবেশবান্ধব কৃষি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ রক্ষা মানে মানবতা রক্ষা।” জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, বন উজাড় ও নদী দখলের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ সোবহান বলেন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, বন উজাড়, শিল্প দূষণ ও রাসায়নিকনির্ভর কৃষি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে পরিবেশবান্ধব কৃষি, বন ও নদী সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত জ্ঞানকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও গ্রামীণ মানুষের জীবনধারা প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই তাদের অধিকার ও ভূমির সুরক্ষা নিশ্চিত করা মানে প্রকৃতি ও মানবতার ভবিষ্যৎ রক্ষা করা।
সভা থেকে ভূমি দখল বন্ধ, পরিবেশ ধ্বংসকারী প্রকল্প বাতিল, আদিবাসী ও দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন নীতি প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।




