জাতীয় প্রেস ক্লাবে গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরে মজুরী বোর্ড পূর্ণগঠন ও মজুরী বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক শ্রমিক নেতা মির্জা আল শামীম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মোস্তফা, সদস্য সচিব অরবিন্দু বেপারী বিন্দু, সদস্য আমির হামজা, শাকিল হোসেন মোবারক, আনিসুর রহমান সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এসময় নেতৃবৃন্দ পোষাক শিল্পে শ্রম অসন্তোষ নিরসনের লক্ষ্যে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবা দেন।
গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দাবী তুলে ধরেছেন শ্রমিকের জীবন মান উন্নয়ন, নারী শ্রমিকদের মাতৃকালীন ছুটি ০৬ মাস, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপদ কর্মসংস্থান, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক কলোনী, শিল্পাঞ্চল গুলোতে হাসপাতাল ইত্যাদি।
গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দাবী তুলে ধরেছেন শ্রমিকের জীবন মান উন্নয়ন, নারী শ্রমিকদের মাতৃকালীন ছুটি ০৬ মাস, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপদ কর্মসংস্থান, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক কলোনী, শিল্পাঞ্চল গুলোতে হাসপাতাল ইত্যাদি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের দাবীর প্রেক্ষিতে এবং শ্রমিকের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে সরকার শ্রম আইনে সংশোধন এনেছে তাহার মধ্যে অন্যতম ৩ বৎসর পর পর মজুরী বোর্ড গঠন করার, যা আগে ছিল ৫ বছর পর পর,।
সরকারের এমন সিদ্ধান্তে শ্রমজিবী মানুষের স্বস্তি ফিরেছিল যে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করছে, এবার শ্রমিকেরা মাথা উচু করে বাচতে পারবে, এবার শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন হবে ইনশাল্লাহ।
সরকারের শ্রমিক বান্ধব মনোভাবে শ্রম আইনে সংশোধন এনে ৩বৎসর পর পর মজুরী বোর্ড গঠন করার সিদ্ধান্তের পর বেশিরভাগ শ্রমিক সংগঠন নিম্নতম মজুরী বোর্ড বরাবর, শ্রম মন্ত্রী বরাবর, শ্রম সচিব বরাবর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর মজুরী বোর্ড লিখিত চিঠি প্রদান করেন।
তাহার পেক্ষীতে শ্রম মন্ত্রী মহোদয় অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখের মধ্যে মজুরী বোর্ড গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।
আরও বলেন, ইতিমধ্যে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ এর সভাপতি ইন্ডিয়াতে পলাতক শেখ হাসিনা মিডিয়ার মাধ্যমে ঘোষনা দিয়েছেন ডিসেম্বরে ২০২৬ ইং দেশে ফিরবেন তাহার দলের নেতা কর্মিদের একত্র হওয়ার ও দেশকে অস্থিতিশীল করার ঘোষনা দেন। ডিসেম্বর মাসে পলাতক শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন দিগুণ বৃদ্ধি হবে বলে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর যে চক্রান্ত সেটি বাস্তবায়ণ করতে এবং মজুরি বোর্ড পূর্নগঠন ও মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে আরো বেশি জোরদার করার মধ্য দিয়ে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করার সকল প্রকার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
নিষিদ্ধ আওয়ামিলীগ সমর্থিত ও তাদের রাজনৈতিক শরীক দলের ও গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনগুলো অন্যান্য সকল সময়ের চেয়ে অধিক জোরালো ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প সেক্টর দেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ডের ২য় স্তম্ভ। দেশে কর্মরত প্রায় ৪০ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিকদেরকে প্রতিনিধিত্ব করা ও পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের শিল্প অসন্তোষ নিরসনের জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন শ্রম অধিদপ্তর কর্তৃক গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনগুলো কাজ করে থাকে।
তবে, ২৪ শে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ পোশাক শিল্প খাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করা ও অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর করার অসৎ উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন সমর্থিত ও অন্তর্ভুক্ত বেশ কিছু রেজিস্ট্রার্ড গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনগুলোই সম্প্রতি বন্ধ হওয়া গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে প্রত্যক্ষ ও পরক্ষভাবে উসকানিতে মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল এবং অন্যান্য কারখানা বন্ধে এখন পর্যন্ত তাদের ষড়যন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে।
সরকারের শ্রমিক বান্ধব মনোভাবে শ্রম আইনে সংশোধন এনে ৩ বৎসর পর পর মজুরী বোর্ড গঠন করার সিদ্ধান্তে ৩ বৎসর শেষ হবে ডিসেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে আমরা দেখলাম ১২ অক্টোবর ২০২৬ ঢাকার উত্তরাতে শ্রমিক নামে বহিরাগত লোকজন লাঠিসোডা হাতে নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে এবং বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে অন্য শ্রমিকদের কারখানা থেকে বাহির করে রাস্তা অবরোধ করার উদ্দেশ্যে, রাস্তা অবরোধের নামে সাধারন মানুষকে ভয়ভীতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহীনীর উপর হামলা মারধর করে আহত করে, উত্তরায় ঘটনা স্পস্ট এটি ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু না, কারন গনপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকারের, শ্রম ও কর্ম সংস্থান মন্ত্রনালয়ের মাননীয় শ্রম মন্ত্রী মহোদয় ঘোষনা দিয়েছেন অক্টোবর২০২৬ ইং মধ্যে মজুরী বোর্ড করবে তার আগেই এমন সহিংশতা যেমন দেশকে অস্থিতিশীল করবে ঠিক তেমনি শ্রমিক কাঙ্খিত যে মজুরী ঘোষনা করতে চলেছে তা বাধাগ্রস্ত করবে। আমরা এমন হামলা ও সহিংসতার তীব নিন্দা জ্ঞাপন করছি সেই সাথে ষড়যন্ত্র কারীদের/ ফ্যাসিস্টদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জোড় দাবী জানাচ্ছি।




