গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত গভীর রাতে আকস্মিক এই ঝড় আঘাত হানলে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ঝড়ের তাণ্ডবে অন্তত ১০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শতাধিক গাছপালা উপড়ে ও ভেঙে পড়ে। তবে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও কয়েকজন অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের পরান, কালিয়াছিড়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ের সঙ্গে ছিল বজ্রপাত ও তীব্র দমকা হাওয়া। এতে টিনের চালা উড়ে যায়, গাছপালা ভেঙে বসতঘরের ওপর পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পরাণ গ্রামের রিক্সা চালক নবীর হোসেন জানান, রাতের বেলায় হঠাৎ প্রবল ঝড় শুরু হলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি আতঙ্কে পড়েন। একপর্যায়ে একটি বড় গাছ তাঁর ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে পুরো বসতঘরটি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। তিনি বলেন, “আমি গরিব মানুষ। রিক্সা চালিয়ে সংসার চালাই। এখন ঘর ভেঙে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছি।
কালিয়াছিড়া গ্রামের আব্দুল বারী মিয়া বলেন, ঝড়ের সময় একটি বিশাল আমগাছ উপড়ে তাঁর বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তিনি বলেন, ঘরের ভেতরে পরিবারের লোকজন ছিল। আল্লাহর রহমতে সবাই অল্পের জন্য বেঁচে গেছি।”

এছাড়াও ঝড়ে স্থানীয় নজরুল ইসলাম কেজি মাদ্রাসার আংশিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাটে গাছ পড়ে যান চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
এবিএম মিজানুর রহমান খোকন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করা হবে।
এ বিষয়ে মা. মশিয়ার রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছর কালবৈশাখী ঝড়ে চর ও গ্রামীণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতি ও দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।




