গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের তহশিলদার (ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা) প্রভঞ্জন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে ঘুষ না দেওয়ায় মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. আমিনুল ইসলাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের চন্দ্র গ্রামের বাসিন্দা মো. আমিনুল ইসলাম তাঁর মা ও মামার কাছ থেকে জমি ক্রয় করে ২০২২ সালে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। এরই মধ্যে তাঁর ক্রয়কৃত জমির দুই শতক জমি প্রতিবেশী মো. গোলাম আযম জবরদখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন আমিনুল ইসলাম।
এ ঘটনায় জমি পুনরুদ্ধারের দাবিতে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে আদালতে মামলা করেন তিনি। মামলাটি তদন্তের জন্য বিচারক সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে দায়িত্ব দেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আরিফুর রহমান ও সোনারায় ইউনিয়নের তহশিলদার প্রভঞ্জন কুমার রায় সরেজমিনে তদন্ত করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তদন্তের একপর্যায়ে তহশিলদার প্রভঞ্জন কুমার রায় তাঁর কাছে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। একই সঙ্গে বিরোধীয় দুই শতক জমি গোলাম আযমের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে দাবি আমিনুল ইসলামের।
আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু তদন্তের নামে ঘুষ দাবি এবং পরে মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ার ঘটনায় আমি হতাশ। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোনারায় ইউনিয়নের তহশিলদার প্রভঞ্জন কুমার রায় বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। কাগজপত্র যাচাই ও প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা ও অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




