গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রথম দিনই বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় মোট ২,০৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭১১ জন অনুপস্থিত ছিল।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের প্রাথমিক স্তরের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা নানা জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত না হয়ে চলতি বছর শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষা আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলার চারটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত আদালতে দায়ের করা একটি রিটের কারণে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়। পরে নতুন সরকারের নির্দেশনায় বিলম্বিত এ পরীক্ষা শুরু হয়। তবে এতে করে পরীক্ষার্থীরা এখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত থাকায় পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যসূচিভিত্তিক পরীক্ষায় অংশ নিতে অনীহা দেখা দিয়েছে।
অভিভাবক বাদশা মিয়া বলেন, “শিশুরা এখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। পঞ্চম শ্রেণির পড়া অনেকটাই ভুলে গেছে। তাই আমার মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। শীতকালের পরীক্ষা গরমের দিনে হলে অনুপস্থিতি বাড়বেই।”
হাজি দবির উদ্দিন কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক আজাদুল করিম নিপু জানান, কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি আদালতে গড়ায়। দীর্ঘদিন নিষ্পত্তি না হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত ছিল।
দুলাল পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মতিউর রহমান বলেন, “বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। এ অবস্থায় পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা দেওয়া তাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই অনুপস্থিত রয়েছে।”
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র বর্মন জানান, “পরীক্ষা দেরিতে শুরু হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত। তারা এখন নতুন শ্রেণিতে ব্যস্ত থাকায় আগের পাঠ্যসূচিতে আগ্রহ কমে গেছে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো পরীক্ষা আয়োজন না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।




