অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের উত্তর বেকাটারী গ্রামে কয়েকটি পরিবারের বসবাস। ওই বাড়ির বাসিন্দা নূরনাহার খাতুনের সঙ্গে জমি-জমা নিয়ে মো. সিদ্দিকুর রহমান ও মো. মঞ্জু মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে প্রায় ৯ মাস আগে কয়েকটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তার দুই পাশে বাঁশের বেড়া দেওয়া এবং রাস্তার পাশে সুপারি গাছের চারা রোপণ করে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই রাস্তা দিয়ে বাপ-দাদার আমল থেকে প্রায় ৭০-৮০ বছর ধরে স্থানীয় কয়েকটি পরিবার এবং আশপাশের মানুষ কৃষিজমিসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে আসছেন। হঠাৎ করে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় কয়েকটি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কৃষিজমিতে যাতায়াত ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। তবে ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চান তারা।

ভুক্তভোগী নূরনাহার খাতুন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছি। জমির চৌহদ্দি অনুযায়ী এই জায়গা দিয়ে আমাদের যাতায়াতের অধিকার রয়েছে। জোর করে বাড়ির প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়ায় আমি ও আরও কয়েকটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অভিযোগ করেছি। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ওই পরিবারগুলো এতদিন আমাদের জমির ওপর দিয়ে চলাচল করেছে। জমি নিয়ে বিরোধের কারণে আমরা আমাদের জায়গা দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু আমাদের জায়গা দিয়ে আমরা আরও কাউকে যেতে দেবো না।
রামজীবন ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজমুল হুদা বলেন, জমির মালিক যে-ই হোক না কেন, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া চরম অন্যায়। রাস্তা খুলে দেওয়ার জন্য তাদের বলা হলেও তারা কথা শোনেনি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। সরেজমিনে তদন্ত করে রাস্তার প্রকৃত অবস্থা, চলাচলের দীর্ঘদিনের ব্যবহার এবং জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পক্ষ যেন জোরপূর্বক জনসাধারণের চলাচলের পথ বন্ধ করতে না পারে, সে বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।




